রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১১

এমপিও খাতে ৫ বছরে লোপাট ১৭১ কোটি টাকা

এমপিও খাতে ৫ বছরে লোপাট ১৭১ কোটি টাকা

নুর মোহাম্মদ: এমপিও নামে পাঁচ বছরে লোপাট হয়েছে ১৭১ কোটি টাকা। ২০০৬-০৭ থেকে ২০১০-১১ এই ৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ অর্থের লোপাট হয়েছে। অবৈধ নিয়োগ পেয়ে এমপিও গ্রহণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকের মৃত্যুর পরও তার নামে বেতন উত্তোলন করে আত্মসাৎ, শিক্ষক নিয়োগ না দিয়েই এমপিও গ্রহণসহ নানাভাবে ওই অর্থ লোপাট করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ অর্থ লোপাটের তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চালানো নিরীক্ষার কার্যক্রমের ওপর তদন্ত পরিচালনা করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এতেই এমপিওর এই অর্থ লুটপাটের বিষয়টি উঠে এসেছে। শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক মানবজমিনকে বলেন, এই অর্থ লোপাটের বিষয়টি আমরা দেখছি। যারাই এর সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এছাড়াও ডিআইএ অনুসন্ধানে ৩ দশকে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৪৪০ কোটি টাকা অতিরিক্ত গ্রহণের প্রমাণ পেয়েছে, যা ডিআইএ তাদের বিগত ৩১ বছরের তদন্তে চিহ্নিত করেছে। ডিআইএ ওই অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে সুপারিশ করেছে।

এ বিষয়য়ে শিক্ষা সচিব জানান, অর্থ লোপাটের বিষয়টি যদি প্রমাণ হয় অবশ্যই সংশ্লিষ্টকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশের ২,৫৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন রিপোর্ট সরকারের কাছে দাখিল করে। এতে তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫৭ কোটি ১৩ লাখ ৪৭,৮১৬ টাকা লোপাটের চিত্র বের করে। এর পরের বছর ২০০৭-৮ অর্থবছরে সরকারি অর্থ ৫৩ কোটি ৯১ লাখ ৯৮,৯১৬ টাকার অনিয়ম ও অপচয় উদঘাটন করা হয়, যা সরকারি কোষাগারে জমাদানের নির্দেশনা ছিল। ডিআইএ অনুসন্ধানে এটি ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম লুটপাট। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৭৭,৮৪৪ টাকার দুর্নীতি খোঁজ পায় ডিআইএ।

পরের বছর ২০০৯-২০১০ তা অর্ধেকে নেমে আসে। ওই বছর ১৮ কোটি ৯ লাখ ৪৬,২৬৩ টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। ২০১০-১১ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৬৮,০০০ টাকায়। অবশ্য ডিআইএ’র গেল ২০১১-১২ অর্থবছরে অনুসন্ধান করে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৬,৪৮৩ টাকার অনিয়ম পায়। এর আগে নব্বইয়ের দশকের শেষে বা ১৯৮৯-৯০ সেশনে ডিআইএ সারাদেশে ২৩ কোটি ৩১ লাখ ৮৯,৩১২ টাকার দুর্নীতি ধরেছিল। মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সরকারি অর্থ লোপাটের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কিছু অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত।

স্থায়ী কমিটির প্রধান অধ্যক্ষ শাহ আলম এমপি জানান, ডিআইএ অনুসন্ধানে এই দুর্নীতি তথ্য ধরা পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ চিত্র আরও খারাপ। ডিআইএ সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. রাম দুলাল রায় বলেন, এমপিওর নামে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে অনিয়ম হয় তা শুনলে যে কারও মাথা খারাপ হয়ে যাবে। ডিআইএ অনুসন্ধান থেকে যে অনিয়ম-অর্থ লোপাটের তথ্য পেয়েছে অবস্থা তার চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর।

উল্লেখ্য, শিক্ষার মানসহ প্রশাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণে ১৯৮০ সালে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রতিষ্ঠা করে সরকার। প্রতিষ্ঠাকালে দেশে এর আওতাধীন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা ছিল ৭,২২১টি। তখন এর জনবল ছিল ১৩০ জন। বর্তমানে ২৭,৬৪৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর সবগুলো তাদের নিরীক্ষার আওতায়।

প্রতিষ্ঠার বছরই ডিআইএ সারাদেশে ১,৬১০টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। সেই বছর তারা এসব প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ ৮৮,০৫৩ টাকার দুর্নীতি উদঘাটন করে। পরে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার ব্যাপারে তারা সরকারকে সুপারিশ করে। ১৯৮২-৮৩ সালে ডিআইএ ২,০৭৭টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করে। সেই বছর প্রতিষ্ঠানগুলিতে দুর্নীতির পরিমাণ আরও বেশি পাওয়া যায়। ডিআইএর তদন্ত দল তাদের পরিদর্শিত মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮২০টির প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল করে। এতে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৩৪ লাখ ২৮,০৮৫ টাকা অনিয়ম ও অপচয়ের চিত্র বেরিয়ে আসে, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেয়ার সুপারিশ করা হয়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026