বিলে ট্যাক্সি চালকের ওপর হামলা হলে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হবে- লেখা পোস্টার বা স্টিকার নিউ ইয়র্ক শহরের বাস, রেলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগানোর বাধ্যবাধ্যকতা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কে বাস ও রেল কর্মচারীদের হামলার জন্য সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান অনেক আগে থেকেই রয়েছে। এ আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণার লক্ষ্যে নতুন এ আইন হতে যাচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক শহরের বিভিন্ন ট্যাক্সি সার্ভিসে কর্মরত দুই লাখের বেশি চালকের নিরাপত্তায় এ ধরনের একটি আইনের জন্য গত কয়েক বছর ধরেই আন্দোলন চলছিল। চালকদের সংগঠন নিউ ইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাইয়ের নেতৃত্বে আন্দোলনে বাংলাদেশিরাও সক্রিয় ছিলেন। নিউ ইয়র্কের ট্যাক্সি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের (টিএলসি) তথ্য অনুযায়ী এই শহরের মোট চালকের ২৫ ভাগই বাংলাদেশি।
গত কয়েক বছরে নিউ ইয়র্কে যতোজন ট্যাক্সিচালক খুন বা গুরুতর আহত হয়েছেন তার অধিকাংশই বাংলাদেশি। চালকদের ওপর হামলা ঠেকাতে আন্দোলনের মুখে গত ২২ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে দ্য ট্যাক্সি ড্রাইভার প্রটেকশন অ্যাক্ট বিলটি পাশ হয়। এখন মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো সই করলেই তা আইনে পরিণত হবে।
সিটি কাউন্সিলের সদস্য ররি ল্যান্সমেন বলেন, আমেরিকায় যতগুলো পেশা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ তার অন্যতম হচ্ছে ট্রাক্সি চালানো। কর্মরত অবস্থায় চালকদের খুন হওয়ার হার ২০-৩০ শতাংশ বেশি। কিন্তু এ কথাটি এতোদিন নিউ ইয়র্কের লোকজন অনুধাবন করেননি।
আন্দোলনকারী এ সংগঠনের নেতা ভৈরবী বলেন, এ আইনের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলাম। চালকদের জন্য এটি একটি বিশাল বিজয়। গাড়িতে ফেলে যাওয়া হীরার গহনা যাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়ে আমেরিকাজুড়ে আলোচিত হওয়া ট্যাক্সিচালক ওসমান চৌধুরী বলেন, চালকদের নিরাপত্তার জন্য এ বিধি কাজ করবে বলে আশা করছি। তবে চালকদের অধিকারের প্রশ্নে টিএলসির সঙ্গে কখনোই আপস করা চলবে না।
সিটি কাউন্সিলে বিল পাওয়ায় সন্তোষ জানিয়ে নিউ ইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের অন্যতম সংগঠক বাংলাদেশের মামনুনুল হক বলেন, কয়েক বছর আগে আমিও আক্রান্ত হয়েছিলাম। আমার বন্ধু সাজেদুর রহমান টিটু দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়ে সাত বছর পর্যন্ত কোমায় থেকে সম্প্রতি মারা গেছেন। অথচ দুর্বৃত্তরা শাস্তি পায়নি। আইনটি হলে চালকদের নিরাপত্তাহীনতা কিছুটা হলেও কাটবে।