নিউজ ডেস্ক: একটি লন্ডন কনসোর্টিয়াম প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে টেমস্ নদীতে একটি ভাসমান সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই ভাসমান রাস্তা দিয়ে শুধু সাইকেল চলবে। লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় যানজট এবং ক্রমবর্ধমান সাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনা এড়াতে এই রিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
থ্যামস ডকওয়ে নামক ৮ মাইল দীর্ঘ এই বাইকপাথ বা সাইকেলের রাস্তাটি টেমস নদীর দক্ষিণ তীর থেকে মধ্যিখানে মিলেনিয়াম ব্রীজসহ ব্যাটারসী এবং ক্যানারী হোয়ার্ফ-এর মধ্যে স্থাপিত হবে রিভার সাইকেলওয়ে কনসোর্টিয়াম-এর নেতৃবৃন্দ ব্রিটিশ স্থপতি ডেভিড নিক্সন এবং উদ্যোক্তা শিল্পী আন্না হিল ডিজাইন/ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম অ্যারাপ (সিডনী অপেরা হাউসের নকশাকারী) ও হাগ ব্রোটন আর্কিটেক্টস-এর সাথে যৌথভাবে এ নিয়ে কাজ করছেন। টিমটি বাইকওয়ের ডিজাইনের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেননি।
বাইকপাথটি কীভাবে ভাসমান থাকবে এবং এতে কী সামগ্রী ব্যবহৃত হবে, তা এখনো বিস্তারিত উল্লেখ করেননি তারা। উপগ্রহ এই ডকওয়ের ব্যাপারে তথ্য প্রদান করবে। ভাসমান রাস্তায় প্রবেশের ঢালু প্রান্ত, স্টল, বাইকের সংখ্যা, গতিবেগ, নদী ও আবহাওয়া সম্পর্কেও সাইকেল চালকদের তথ্য প্রদান করবে উপগ্রহের মাধ্যমে বাইকওয়েতে স্থাপিত সেন্সর সমূহ। টেমস নদীর জোয়ার-ডাটার সাথে এই রাস্তাটি উঠানামা করবে। সৌর, জোয়ার ও বায়ূ শক্তি থেকে সংগৃহীত হবে বাতি জ্বালানো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের বিদ্যুৎ।
যদি অনুমোদিত হয়, তবে এই বাইকওয়ে বা বাইকপাথে ঘন্টায় ১২ হাজার সাইকেল চলাচল করতে পারবে। এটা তৈরীতে কমপক্ষে ২ বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। প্রত্যেক সাইকেল আরোহী দেড় পাউন্ডের বিনিময়ে এই রাস্তাটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
লন্ডন নগরীতে ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের প্রায় ২৫ শতাংশই থাকে সাইকেল। ২০১৩ সালে ১৩ দিনের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশেষভাবে লরির সাথে সংঘর্ষে ৬ জন সাইকেল আরোহী নিহত হন। ২০০৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে সাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ার সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।