আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ শতাংশ জনগণ মনে করেন, দেশটি সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। সিএনএন পরিচালিত সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ জনগণ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাজকর্মে চরম অসন্তুষ্ট। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দল ডেমোক্রেটিক পার্টি এমনিতেই প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যালঘিষ্ঠ। প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে ডেমোক্রেটিক দলের প্রতিনিধি ২১০ জন এবং রিপাবলিকানদের আসন ২৩৪টি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে তাঁদের আসন আরও বাড়াতে সক্ষম হবেন বলেই জনমত জরিপে দেখা গেছে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে আপাতত সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। মাত্র ছয়টি আসনে জয় ছিনিয়ে নিতে পারলেই সিনেটেও রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা পাবে। সিএনএনসহ সব কয়টি সর্বশেষ জনমত জরিপের ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিপজ্জনক বার্তাই নিয়ে এসেছে। সিনেটের অন্তত তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের পুনর্নির্বাচন সহজেই ঠেকিয়ে দেবেন রিপাবলিকানরা। পুনর্নির্বাচনের অন্য আসনগুলোতেও ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠ শেষ মুহূর্তে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে।
আইওয়াতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা নিম্নপর্যায়ে। এই নির্বাচনী এলাকার ৫৬ শতাংশ জনগণ ওবামার কাজকর্মে অসন্তুষ্ট। ফলে স্থানীয় কোনো ইস্যু না থাকায় আইওয়াতে সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের রাজ্য লুইজিয়ানা, আরকানসাস ও নর্থ ক্যারোলাইনা ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থীদের জন্য বিপজ্জনক বলে জনমত জরিপে দেখা গেছে। মনটানা, সাউথ ডাকোটা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে তিনটি সিনেট আসনে রিপাবলিকানরা সহজেই জয় পেতে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তেমন কোনো জতীয় ইস্যু নেই। ওবামার জনপ্রিয়তা যাচাই করতেই ভোটের মাঠে রয়েছেন প্রার্থীরা। নগরকেন্দ্রের বাইরে তাঁর জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ৭০ শতাংশ নগরকেন্দ্রের বাইরের জনগোষ্ঠী ওবামার কাজকর্মে অসন্তুষ্ট। অর্থনীতির দ্রুত উন্নয়ন না হওয়া, সর্বজনীন বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিমা, মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা সামাল দেওয়ার ব্যর্থতা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে নগরকেন্দ্রের বাইরের ক্ষুব্ধ জনমতের জোরালো প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি আরও কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়াটা ডেমোক্র্যাটদের জন্য দুঃসংবাদের কারণ। রিপাবলিকান ভোটাররা সাধারণভাবে বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত ও শ্বেতাঙ্গ। ওবামার ওপর ক্ষুব্ধ রক্ষণশীলরা দলের জন্য প্রতিশ্রুতিশীল। এসব ভোটার রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার জন্যই কেন্দ্রে যাবেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা অল্প বয়স্ক, অভিবাসী এবং কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য মোটেই সুখকর হবে না। তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছর রিপাবলিকানদের সঙ্গে আপস করেই চলতে হবে। রিপাবলিকানদের রক্ষণশীল আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে ক্রমাগত ভেটো দিয়েই ক্ষমতার শেষ সময়টুকু পার করতে হতে পারে ওবামাকে।