২০ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের আট্রিয়াম হলে অনুষ্ঠিত ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে ব্রিটেন ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। ব্রিটেন সফরে আসা ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিবিসিসি) এ সেমিনারের আয়োজন করে। বক্তারা বলেন, পর্যটন খাতে বাংলাদেশে বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা। তাঁদের মতে, সরকার আন্তরিক না হলে এসব সমস্যার সমাধান যেমন সম্ভব নয়, তেমনি এসব সমস্যার সমাধান ছাড়া পর্যটন খাতকেও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা অসম্ভব।
বিবিসিসির সভাপতি মাহতাব চৌধুরী ও এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের নেতা আনোয়ার হোসেন পরস্পরকে ক্রেস্ট দিচ্ছেন
স্বাগত বক্তব্যে বিবিসিসির সভাপতি মাহতাব চৌধুরী বলেন, প্রতিটি প্রবাসী বাংলাদেশের জন্য একেকজন দূত হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের অনেকে দেশে বিনিয়োগ করে ব্যবসা বাণিজ্য করতে চান। দেশের উন্নয়ন চান। কিন্তু প্রবাসী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে বাংলাদেশে যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লালফিতার হয়রানি রয়েছে, তা বন্ধ করতে হবে। বিনিয়োগ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যত ভালো, সে দেশের পর্যটন খাত তত বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।
মাহতাব চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ সরকার সিলেটে যে ইকোনমিক জোন করার উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে ব্রিটেন প্রবাসীদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে বিবিসিসি। এ লক্ষ্যে তারা ব্রিটিশ একটি অবকাঠামো নির্মাণ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করেছে।
এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছেন ব্যবসায়ী, কৃষক ও প্রবাসীরা। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না থাকলে বাংলাদেশ আরও বহু দূর এগিয়ে যেত। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বিনিয়োগবান্ধব দেশ গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
সাবেক মন্ত্রী গোলাম সারওয়ার মিলন বলেন, পোশাক খাতের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে সম্ভাবনায় খাত হলো পর্যটন। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
সেমিনারে অতিথিরাবিবিসিসির অর্থ পরিচালক সাইদুর রহমান রেনু বলেন, নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা ব্রিটেনের রাজনীতি, শিক্ষা, ব্যবসাসহ সব ক্ষেত্রে ভালো করছে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এরা বাংলাদেশে চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আকৃষ্ট হবে।
বিবিসিসির কর্মকর্তা রুজমিলা হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিবিসিসির সাবেক সভাপতি মুকিম আহমদ, মেম্বারশিপ পরিচালক মনির আহমদ, পরিচালক মঈদ উদ্দিন, লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর শরিফা খান প্রমুখ।
সেমিনার শেষে বিবিসিসির সভাপতি মাহতাব চৌধুরী ও এফবিসিসিআই প্রতিনিধি দলের নেতা আনোয়ার হোসেন পরস্পরকে নিজ নিজ সংগঠনের ক্রেস্ট দেন।

শাহাব উদ্দিন আহমদ: মঞ্চে আলোচক ও দুই সংগঠনের নেতারানিরাপত্তাহীনতার কারণে বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করেন প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বিনিয়োগ। আর এ বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ। কিন্তু রাজনৈতিক ও অন্যান্য নানা কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। যে কারণে অনেকে বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না।
