আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনকে সামনে রেখে সাত নেতার সরাসরি টিভি বিতর্কে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন কনজারভেটিভ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। গত পাঁচ বছর অর্থনীতি, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও মানুষের জীবনমান প্রশ্নে ক্যামেরনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন ছয় নেতা। তাঁরা নিজ নিজ দলের বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।
যুক্তরাজ্যে ৭ মে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাদের ধারাবাহিক বিতর্কের এটি ছিল দ্বিতীয় বিতর্ক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আইটিভি সাত নেতার ওই বিতর্ক সরাসরি সম্প্রচার করে। এটি একমাত্র বিতর্ক, যেখানে ক্যামেরন ও মিলিব্যান্ড মুখোমুখি হলেন।
বিতর্ক পরবর্তী আইসিএম-এর জরিপে দেখা যায়, ক্যামেরনের চেয়ে মাত্র এক শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন লেবার দলের নেতা এড মিলিব্যান্ড। জরিপে দুই নেতার অবস্থান যথাক্রমে ২৪ ও ২৫ শতাংশ। ২২ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন কট্টর ডানপন্থী দল ইউকে ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টির (ইউকিপ) নাইজেল ফারাজ।
পাঁচ বছর ক্ষমতার অংশীদার হয়ে থাকা লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা নিক ক্লেগকে ছাড়িয়ে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএনপির) নিকোলা স্টার্জিয়ন। জরিপে নিক ক্লেগ এবং নিকোলার অবস্থান যথাক্রমে ৯ ও ১৯ শতাংশ। গ্রিন পার্টির নাটালি বেনেট ৩ এবং ওয়েলস ন্যাশনালিস্ট প্লেইড কিমরুর লিয়ান উড ২ শতাংশ সমর্থন পেয়ে সবশেষে অবস্থান করছেন। বিতর্ক দেখেছেন এমন এক হাজার ১০০ ভোটারের মতামত যাচাই করা হয় জরিপে।
লেবার পার্টির জন্য এই বিতর্কের ফলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নেতাসুলভ ভাব না থাকার কারণে সমালোচিত মিলিব্যান্ড এই প্রথম কোনো জরিপে ক্যামেরনকে ছাড়িয়ে গেলেন। যার সঙ্গে জোট বেঁধে ক্যামেরন গত পাঁচ বছর দেশ চালিয়েছেন, সেই নিক ক্লেগ কনজারভেটিভ দলের ধনীবান্ধব নীতি ও কল্যাণ ব্যয় কমানোর কঠোর সমালোচনা করে ক্যামেরনের প্রতি কটাক্ষ করেন। আদর্শগত চরিত্রের কারণে ক্যামেরনের সরকার বাস্তবতা উপেক্ষা করে বেপরোয়া বাজেট কর্তনের নীতি গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেন নিক ক্লেগ।
জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় (এনএইচএস) বাজেট হ্রাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাড়িয়ে ক্যামেরন সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নেননি বলে অভিযোগ করেন এড মিলিব্যান্ড। ধনিদের আয়ের ওপর কর বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ধরে রেখে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সম্ভব, এ প্রশ্নে ক্যামেরনকে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন অভিবাসন বিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজ। সরকারের কল্যাণ ব্যয় কমানোর বিরোধিতা করেন বাকি তিন দলের নেতারা। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণের ঘোষণা দিয়েছেন গ্রিন পার্টির নাটালি বেনেট।
এসএনপি নেতা নিকোলা স্টার্জিয়ন বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রে বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ বন্ধ করে তা বাজেট ঘাটতির কাজে লাগানো উচিত। স্বাধীন স্কটল্যান্ডের আকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিকোলা বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের মঙ্গলের জন্য কাজ করবেন। সমালোচনার শিকার ক্যামেরন দাবি করেন, তাঁর সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি লেবার দলের অধিক ঋণ ও অধিক ব্যয় নীতির বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক করেন।