শীর্ষবিন্দু নিউজ: সেন্ট্রাল লন্ডনের পার্ক লেইন হোটেলে রোববার লন্ডন সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা সভা চলছিল তখন সভাস্থলের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল বিএনপির নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক প্রবাসী জনগণ। ছয়দিন ব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের তৃতীয় দিনে লন্ডনে পার্কলেন হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজ ও সংবর্ধনা অনুষ্টানকে কেন্দ্র করে বিশাল বিক্ষোভ করে।
গত রবিবার (১৪ জুন) সেন্ট্রাল লন্ডনের অজিভাত এলাকা পার্কলেনের পার্ক লেন হোটেলের সামনে দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৮ টা পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মী অবস্থান করে। নানা দাবি সম্বলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন নিয়ে ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তরুণ দল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার লন্ডন সফরের প্রতিবাদ জানায়।
এ সময় নেতাকর্মীরা ডাউন ডাউন শেখ হাসিনা, শেইম শেইম শেখ হাসিনা, হাসিনা মাস্ট গো, কিলার হাসিনা গো এ ওয়ে, ইত্যাদি নানা দাবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে জ্বালোরে জ্বালো আগুন জ্বালো, একশান একশান ডাইরেক্ট একশন ইত্যাদি নানা শ্লোগান দেয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীদের ওপর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার বিভিন্ন বাহিনীর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানান।
যুক্তরাজ্য বিএনপির তীব্র প্রতিরোধের মুখে শেখ হাসিনা সামন দিয়ে প্রবেশ করতে না পেরে পিছনের রাস্থায় হোটেলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু ওৎ পেতে থাকা কিছু স্বেচ্ছাসেবক ও তরুণ দলের নেতা কর্মীরা হাসিনাকে দাওয়া করে এবং ছেড়া জুতা আর পচা ডিম শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ করে নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে শেখ হাসিনা বিরক্ত হয়ে অসব্য বলে গালি দিতে শুনা গেছে বলে সেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা আমাদের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রতিরোধ ঠেকাতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হোটেল থেকে বের হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ধাওয়া করে। পচা ডিম ও টমেটো নিক্ষেপ করে ধর ধর বলে ধাওয়া করলে (দৌড় দিয়ে) পালিয়ে হোটেলে প্রবেশ করে। এতে অনেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে ডিমে সিক্ত হতে দেখা গেছে।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ভাষ্যমতে, ৫ জানুয়ারীর অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছেন। ভোটারবিহীন এ নির্বাচনে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। বৃটেন, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাই গণতন্ত্রের সুতিকাগার ব্রিটেনের মাটিতে আমরা অবৈধ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পারি না। শেখ হাসিনা ব্রিটেনের যেখানেই যাবেন সেখানেই তাকে প্রতিহত করা হবে।
শেখ হাসিনাকে জালিম সরকার আখ্যা দিয়ে সভাপতি এম এ মালেক বলেন, ক্ষমতা দখলের পর থেকে এই ফ্যাসিষ্ট সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম ও নির্যাতনের যে স্টীম রোলার চালাচ্ছেন তা ১৯৭১ সালের পাক বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানায়। অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে কোন সরকারই টিকে থাকতে পারেনি আর শেখ হাসিনাও পারবেন না। বাংলাদেশের জনগণ তাকে টেনে হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামাবে।