শীর্ষবিন্দু নিউজ: মুসলমানদের গর্ব ও ইউরোপের বৃহত্তর মসজিদ হিসেবে সুপরিচিত ইস্ট লন্ডন মসজিদ এবং লন্ডন মুসলিম সেন্টারকে নিয়ে বিবিসি একটি বিশেষ প্রতিবদেন প্রচার করেছে। এওয়ার্ড বিজয়ী সাংবাদিক রব লিচ বিবিসির জন্য ডকুম্যান্টারীটি তৈরী করেন।
সম্প্রতি প্রচারিত এ ডকুম্যান্টারিটি স্থানীয় মিডিয়া ও কমিউনিটিতে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ওয়েলকাম টু মস্ক-এই শিরোনামে সাংবাদিক রব লিচ বিবিসির জন্য তৈরী প্রতিবেদনটিতে, মসজিদ যে গোপন কিছু নয়, তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।
তাতে দেখানো হয়, এটি শুধু মসজিদ নয়, এখানে একাধিক স্কুল, লিগ্যাল চ্যারিটি, ম্যারেজ সাপোর্ট, ফিটনেস সেন্টার, উইম্যান প্রজেক্টসহ নানা কিছু পরিচালিত হয়। ডকুমেন্টারীর তৈরীর আগে ৬ মাস মসজিদ পর্যবেক্ষন করে যথেস্ট ইতিবাচক দৃষ্টিতে মসজিদকে উপস্থাপন করায় মেইনস্ট্রিমে এ মসজিদ বা সাধারন মুসলমানদের নিয়ে যে বিভ্রান্তি আছে তা দুর হতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
এ ডকুম্যান্টরি বিষয়ে চ্যানেল এস ফাউন্ডার মাহি ফেদৌস জলির বলেন, এলএমসি বা ইস্ট লন্ডন মসজিদ যে কমিউনিটির জন্য কাজ করে, বিবিসির ডকুম্যান্টারির মাধ্যমে মূলত তারই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এটা শুধু বাঙালী কমিউনিটি না, ইউকে ও ইউরোটের পুরো মুসলিম কমিউনিটি এবং যারা এ মসজিদটি নির্মাণে দান করেছেন বা করে যাচ্ছেন তাদের জন্য বিরাট পাওনা বলে মনে করেন তিনি।
বিবিসি‘র সাংবাদিক পর্যবেক্ষন করেন কী ভাবে নামাজ পড়া হয়, কী ভাবে ম্যানেজম্যান্ট মিটিং হয়। এমনকি কী ভাবে ওজু করা হয়। তিনি তার এক সৎ ভাই মুসলমান হলেও উগ্রপন্থা বেছে নিয়েছেন বলেও অকপটে স্বীকার করেন ডকুম্যান্টারির ভেতরে। ডকুম্যান্টারীতে স্থানীয় বেথনালগ্রিন স্কুলের তিন স্কুল ছাত্রীর সিরিয়া গমনের বিষয়ে ইস্ট লন্ডন মসজিদের অজানা বিষয়টি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এতে দেখানো হয়েছে নিখোঁজ তিন মেয়ের পরিবারকে সহযোগিতা করতে ইস্ট লন্ডন মসজিদের পক্ষ থেকে কিভাবে প্রাণপণ চেস্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ৩ স্কুলছাত্রী নিখোঁজের সঙ্গে ইস্ট লন্ডন মসজিদকে জড়িয়ে কিছু কিছু বৃটিশ মিডিয়ার নেতিবাচক সংবাদ প্রচারের বিষয়টি অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হয়। এ ডকুম্যান্টারির মাধ্যমেই এসব নেতিবাচক প্রচারের জবাব দেয়া হয়। মসজিদ কী ভাবে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে সহযোগিতা করে তাও তুলে ধরেন মিডিয়া অফিসার সালমান।
এছাড়া এলএমসি‘র স্কুল ছাত্ররা কতিথ ইসলামিক স্টেট বা আই এস এর বিরুদ্ধে কথা বলে বলিষ্ট কণ্ঠে। এ ডকুম্যান্টারীর মাধ্যমে মসজিদ সংশ্লিষ্ট তরুন উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ধারনা ফুটে উঠেছে। মসজিদে পরুষ-মহিলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা বা সেকরিগেশন সম্পর্কের পর্যালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ইমাম বা মহিলা কর্মকর্তা সকলেই বিষয়টি পরিস্কার করার চেষ্টা করেন।