Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

অ্যাসাঞ্জকে কূটনীতিক হিসেবে রাশিয়া পাঠাতে চেয়েছিল ইকুয়েডর

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বড় বড় কর্পোরেশনের গোপন নথি ফাঁসকারী বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে রাশিয়ায় নিজ দেশের কূটনীতিক হিসেবে পাঠাতে চেয়েছিল ইকুয়েডর।

২০১৭ সালে এমন উদ্যোগ নিয়েছিল দেশটি। সে সময় তাকে রাশিয়ায় কূটনৈতিক পদবীও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্য তাকে কূটনৈতিক দায়মুক্তি দিতে অস্বীকার করলে ইকুয়েডরের ওই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ইকুয়েডরের এ সংক্রান্ত সরকারি নথি হাতে পেয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জের বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাতে মস্কোর সঙ্গে আলোচনা করেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো।

সুইডেনে দুই নারীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ উঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে রয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। তার আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। আর যুক্তরাষ্ট্র তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে।

অ্যাসাঞ্জকে রাশিয়ায় কূটনীতিক হিসেবে পাঠানোর এ উদ্যোগের কথা জানা যায় একজন এমপিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লেখা এক চিঠিতে। ওই এমপি গতবছর অ্যাসাঞ্জের নাগরিকত্বের বিষয়ে ইকুয়েডরের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছিলেন।

বিরোধীদলীয় ওই এমপির নাম পাওলা ভিনটিমিল্লা। তাকে লেখা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর অ্যাসাঞ্জকে একটি ‘বিশেষ পদবী’ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যাতে করে তিনি রাশিয়ায় ইকুয়েডর দূতাবাসে কাজ করতে পারেন।

ইকুয়েডরে এ ধরনের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ পদবী’ বলতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে কূটনীতিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে বোঝানো হয়। কূটনৈতিক ক্যারিয়ার না থাকলেও প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক মিত্রদের এ পদে নিয়োগ দিতে পারেন।

কিন্তু ২১ ডিসেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অ্যাসাঞ্জকে তারা কূটনীতিক হিসেবে গ্রহণ করবে না। যুক্তরাজ্য তাকে কূটনীতিক হিসেবে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী সুবিধা ও দায়মুক্তি পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে না।

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে এমন চিঠি পাওয়ার পর অ্যাসাঞ্জকে রাশিয়ায় দূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ইকুয়েডর। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও জানিয়ে দেয়, যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলেই জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করা হবে। বিপরীতে ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলে সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ না করার নিশ্চয়তা চান অ্যাসাঞ্জ।

উইকিলিকসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন কতৃপক্ষ অ্যাসাঞ্জকে বের করে দিতে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close