শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারে সরকারী বাহিনীর অভিযানে রাখাইনে বসবাসরত রহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা ও নারী কিশোরিদের ধর্ণন ও তাদের বাড়ী ঘরে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন জানানো হয় বৃটিশ পার্লামেন্টে।
গত
১৩ ডিসেমবর মঙ্গলবার হাউজ অব কমন্সে মানবাধীকার সংগঠন ভয়েস ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে সংগঠনের প্রতিষ্টাতা আতাউলা ফারুকের পরিচালনায় ও হাউজ অব লর্ডসের প্রভাবশালী সদস্য লর্ডস নাজির আহমদের সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কানিজ ফাতিমা, পারভিন ববি, আলাউদ্দিন রাসেল, লুতফুর রহমান লিংকন, আব্দুর রহিম, ডলার বিশ্বাস, ফরহাদ হোসেন, লুতফুর রহমান, মাহমুদুল হাসান, আব্দুলাহ আল নোমান, হাসনাত চৌধুরী, জাকির হোসেন, সাংবাদিক মুহিদুর রহমান বাবলু, বাকি উলাহ ফারশুক, জাহাঙ্গীর হোসেন, আকলিমা ইসলাম, লুবা চৌধুরী, সাংবাদিক মাহবুব খানসুর, বন্যা আহমেদ, গরিব হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম শিকদার ও সাংবাদিক কাওছার প্রমূখ।
সভায় অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন ব্রিটিশ হাউজ অব লর্ডসের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব লর্ডস হোসাইন, বৃটিশ পার্লামেন্টের কল স্কার্লি এমপি, সাইমন ডান্সাক এমপি, নাজ শাহ এমপি, লিস মেকনিস এম পি, আন্তর্জাতিক আইনজীবী র্কাল বার্কলে, এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ান হেড ওলফ বংলওবিস্ট, এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মায়ানমারের প্রধান লওড়া হাই, হিউমান রাইটস ওয়ার্চের হেড অব কমিউনিকেশন মার্তো তিলিনকি, মানবাধিকার কর্মী মারি নিকোলাই, ভয়েজ ফর বাংলাদেশ ইউকে শাখার কনভেনার ফয়সল জামিল, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ইউকে শাখার কনভেনার এস এইচ সোহাগ।
গণহত্যাকে একটি গুরুতর অভিযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে বক্তারা বলেন, এ জন্য আইন ও বিচারক পর্যালোচনা দরকার। এটা হালকাভাবে নেয়ার মতো কোনো বিষয় না।
সেনা প্রধানের সাথে বৈঠকের ওপর আলোকপাত করে বক্তারা বলেন সামরিক বাহিনীর কাজ করাটা যেমন গুরশুত্ব¡পূর্ণ, তেমনি বেসামরিক মানুষেরও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। সামরিক বাহিনীর দু’টি ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব।
তেমনিভাবে বেসামরিক মানুষের অধিকার রক্ষা করাও তাদের ওপর অর্পিত গুরুত্বদায়িত্ব। মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্জ্যে বিভিন্ন এলাকায় রহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়ী ঘরে ও নিবির্বচারে অগ্নিসংযোগ, মানুষ হত্যা, গত কয়েকদিনে প্রায় ২ হাজার বশতবাড়ীতে আগুন, রাস্তাঘাটে পাওয়া যাচ্চেছ মৃত দেহ। ধর্ষণ করা হচ্চেছ নারী ও কিশোরী।
গোটা আরাকান রাজ্য যেন একটি মৃত্যুকুপে পরিনত হয়েছে। বিশ্বমানবতা ঘুমিয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মহলের নিরবতা সবাইকে অবাক করে দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের বর্ডার সাময়িকভাবে খুলে দেয়া জাতিসংঘ এমিনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল, হিউমান ওয়ার্চ হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভয়েস ফর বাংলাদেশ।
জাতিসংগের সাবেক মহাসচিব ও রাখাইন পরামর্শ কমিটির প্রধান কফি আনান মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে রাখাইন প্রদেশ পরিদর্শন শেষে ইয়াঙ্গুনে বলেন এটি একটি মৃত্যুজজ্ঞ।
উত্তর রাখাইনে ত্রাণ ও সংবাদ কর্মীদের প্রবেশাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে অতি দ্রুত মিয়ানমার সরকার এর অনুমোদন দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কনফারেন্সে হাউজ অব লর্ডস মেমবার, বৃটিশ এম পি, এমিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিনিধি, হিউমান রাইটস ওয়াচ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রতিনিধি সহ সকলেই মায়ানমারের এই হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও যতদ্রশুত সম্ভব এই বর্বরতা বন্ধের জন্য মায়ানমার সরকারের প্রতি জোরালো দাবী জানান।
বক্তারা আলোচনায় জাতিসংঘের মহাসচিব বানকিমুনের নিরবতা নিয়ে সমালোচনা করেন এবং তারা আশা করেন জাতিসংঘসহ সহ আন্তর্জাতিক মহল যতদ্রুত সম্ভব এই গনহত্যা বন্ধের জন্য, মানবতা রক্ষার জন্য এগিয়ে আসবেন। ব্রিটিশ সরকার এবং ইউরোপিয়ান কমিশন এর জন্য যা যা করনীয় অতি দ্রুত করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউমান রাইটস ওয়ার্চ জাতিসংঘের মাধ্যমে মায়ারনমার সরকারকে এই হত্যযজ্ঞ বন্ধের জন্য অনুরোধ করবেন বলে জানান। ভয়েস ফর বাংলাদেশের প্রতিনিধিগন বৃটেনে বসবাসরত সকলকে তাদের স্ব-স্ব এমপিকে মায়নমারের এই বর্বরতা সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লেখার জন্য অনুরোধ করেন।
সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-নিপীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে রাখাইন প্রদেশ পরিদর্শন শেষে ইয়াঙ্গুনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ উদ্বেগের কথা জানান আগত অতিথিবৃন্দ।
এছাড়াও উত্তর রাখাইনে ত্রাণ ও সংবাদ কর্মীদের প্রবেশাধিকারের ওপর গুররশুত্বরোপ করে শিগগির মিয়ানমার সরকার এর অনুমোদন দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।