আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সিরিয়ার ঐতিহাসিক আল-ওমারি মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা শহরের ঐতিহাসিক আল-ওমারি মসজিদ।
সিরিয়ায় আল-ওমারি মসজিদ নামে দুটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ রয়েছে। এর মধ্যে একটি দক্ষিণ সিরিয়ার দারা শহরে এবং অন্যটি ঐতিহাসিক বোসরা প্রাচীন রোমান শহরে অবস্থিত।
দুটি মসজিদই ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে (৭ম শতাব্দী) সিরিয়া বিজয়ের পর তাঁর সম্মানে বা সরাসরি তাঁর নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল।
সিরিয়াসহ পুরো লেভান্ত অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এই মসজিদের নাম জড়িয়ে আছে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) সঙ্গে।
গত কয়েক দশকে মসজিদটি শুধু ধর্মীয় ইবাদতখানা হিসেবে ব্যবহার হয়নি, বরং সিরিয়ার যুদ্ধ ও বিপ্লবের এক অনন্য জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এবার সেই ঐতিহাসিক স্থাপত্যটি ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (ইসেসকো) বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আল-ওমারি মসজিদের ইমাম শায়খ বাসাম আল-মাসরি আল জাজিরাকে বলেন, সিরিয়ার জনগণ, বিশেষ করে দেরা শহরের মানুষের হৃদয়ে এই মসজিদের স্থান অত্যন্ত উঁচুতে।
মসজিদটি শুধু নামাজের স্থান ছিল না, বরং সিরিয়ার বিপ্লবের শুরুর দিনগুলোতে বিক্ষোভকারীদের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। মসজিদের চত্বরেই প্রথম গড়ে তোলা হয়েছিল যুদ্ধের আহতদের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল।
শায়খ বাসাম আরও জানান, যুদ্ধের বছরগুলোতে মসজিদর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এর ঐতিহাসিক মিনার এবং মূল ভবনের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে এর সংস্কার কাজ শুরু হলেও এর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যশৈলীর মান ধরে রাখতে আরও দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
এই মসজিদটিতে প্রাচীন উমাইয়া যুগের একটি অনন্য চারকোণা মিনার রয়েছে, যা দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের মিনারের আদলে তৈরি।
এর প্রাচীন প্রাঙ্গণটি এক সময় বাণিজ্য কাফেলা ও হাজীদের বিশ্রামের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। গৃহযুদ্ধের সময় এটিও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে আংশিক সংস্কার করা হয়।


Leave a Reply