শীর্ষবিন্দু নিউজ: ২৭ মার্চ সোমবার পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সি হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যুক্তরাজ্য আয়োজিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জিয়াউর রমান বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বরাবরেই মতো এবারও তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিবুর রহমান আর তার রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে মূল্য দিতে হয়েছে সমগ্র বাঙ্গালী জাতিকে। তার নেতৃত্বের ব্যর্থতায় ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে জাতির সূর্যসন্তানদের হারাতে হলো। আর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে ২৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের সেনাবাহিনীর অনেক অফিসার কে হারাতে হল।
তারেক রহমান বলেন, বন্দুকের জোরে পুলিশ দিয়ে কিংবা আদালত দিয়ে ইতিহাসের সত্যকে আটকে রাখা যায় না। ঐতিহাসিক দলীল পত্র প্রমান করে শেখমুজিব সেই সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তাই স্বাধীতার ঘোষণাও দেননি। বরং এটি এখন প্রমানিত সত্য জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক।
তিনি বলেন, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখো স্বাধীনতাকামী মানুষ জড়ো হয়েছিলো। সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লে বাংলাদেশে এত ক্ষয়ক্ষতি হতোনা। কারণ ৭ মার্চ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের লক্ষ কোটি স্বাধীনতাকামী জনগনের সামনে সব মিলিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের ১০- ১৫ হাজারের বেশী সেনা-পুলিশ ছিলোনা। তাই লক্ষকোটি স্বাধীনতাকামী মানুষের বিপরীতে এত অল্পসংখ্যক সেনা-পুলিশ দাঁড়াতে ও পারতোনা।
তিনি বলেন, শেখ মজিব ৭ মার্চ কিংবা ২৬ মার্চ কখনোই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পাকিস্তান থেকে জেনারেল পিরজাদার ফোনকলের অপেক্ষায় না থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা দিলে ২৫ মার্চের গনহত্যা সংঘটিত হতে পারতোনা। তারেক রহমান প্রশ্ন করে বলেন, শেখমুজিবুর রহমান ২৭ মার্চ ঢাকায় হরতাল ডেকেছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষনা দিলে হরতাল ডাকা হলো কেন?
তিনি বলেন, শেখ মুজিবের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় সংঘটিত হয় বর্বরোচিত গনহত্যা। অপরদিকে ২০০৯ সালে বিডিআরের তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের কথা তাৎক্ষনিকভাবে জানালেও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তহীনতায়২৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় সংঘটিত হয় বর্বরোচিত সেনাহত্যা।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের২৫ মার্চের গনহত্যা সম্পর্কে আরো বেশী আলোচনা হওয়া দরকার। এ সম্পর্কে যত বেশী আলোচনা হবে ততই ইতিহাসের কঠিন সত্য বেরিয়ে আসবে। তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এভাবে তথ্য প্রমান সহ রুখে দাঁড়ানো একটিন শুভ উদ্যোগ।
তিনি দেশে বিদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ইতিহাস সচেতন হওয়ার আহবান জানান। আগামী দিনে দলের সর্বস্তরে নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানেররভুমিকা, বিএনপির রাজনৈতিকনআদর্শ ও কর্মসূচীনসম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রয়েছে কিনা সেটি বিবেচনায় নেয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্ত প্রমান করে, সেদিন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সংগঠিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ক্ষয় ক্ষতি আরো বেশী হোত। তারেক রহমান বলেন, তিনি বছর দুয়েক আগে দলীল প্রমান দিয়ে বলেছিলেন শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। এখন শেখ হাসিনা সেটি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ৭ মার্চ শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষনা দিতে কারা পীড়াপীড়ি করছিলেন তাদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা।
তারেক রহমান বলেন, এভাবেই ধীরেধীরে বেরিয়ে আসবে শেখ মুজিব কিংবা আওয়ামীলীগ সেই সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। কারন শেখ মুজিব ৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান রক্ষায় এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত শাসনের জন্য।
এ প্রসঙ্গে ৭০ সালের নির্বাচনী মেনিফেস্টোর একটি কপি তুলে ধরেন তারেক রহমান। সেখানে ৭০ সালে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে লেখা ছিলো, আসন্ন নির্বাচন হবে বাংলাদেশের স্বায়ত্ব শাসন প্রশ্নে গণভোট।
বাংলাদেশের ৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ২৫ মার্চ হত্যা: শেখ মুজিবের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দলীল“ নামে একটি বই প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। অনুষ্ঠানে বইয়ের একটি কপি তারেক রহমানেরন হাতে তুলে দেনন যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতিরএম এ মালিক।
যুক্তরাজ্য বি,এন,পি’র সভাপতি এম এ মালিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম পরিচালনায় সভা মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় বিএপি’র আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ মালেক, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র প্রথম উপদেষ্টা সায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।