শীর্ষবিন্দু নিউজ: বহুল সমালোচিত রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সুন্দরবনে পরিবেশের যাতে কোন ধরনের ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে নজর দিতে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
মনমোহন সিং বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি। দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের উদ্বোধনের ঘটনা দুদেশের আন্তঃসংযোগের জন্য একটি মাইলফলক ঘটনা। ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ভারতের বিদ্যুৎ আমদানির জন্য সঞ্চালন উপকেন্দ্রের সঙ্গে বাগেরহাটের রামপালে নির্মিতব্য ‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট’ এর ভিত্তিস্থাপন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে তার প্রতিনিধি হিসেবে ভেড়ামারায় ছিলেন ভারতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ। পরিবেশবাদীদের সমালোচনার মধ্যে শনিবার বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন অনুষ্ঠানে বাস্তবায়নকারীদের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মনমোহন সিং বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের দুই দেশের নিয়তি একসূত্রে গাঁথা, আমাদের অর্থনীতিও তাই। আমি মনে করি, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন এ অঞ্চলের দেশগুলোর সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে সম্ভব, এবং এটাও বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তা ধারণ করেন। সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার ওপর জোর দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, যে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ দুই দেশের মধ্যেই রয়েছে। মনমোহন সিং দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের উল্লেখ করে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরাল করার ওপর জোর দেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে মনমোহন সিং যৌথ উদ্যোগের রামপাল কেন্দ্রের সাফল্য কামনা করে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ভারত একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চায়। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসাও করেন মনমোহন সিং। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় অংশীদার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, আজকের উদ্বোধনের ঘটনা দুদেশের আন্তঃসংযোগের জন্য একটি মাইলফলক ঘটনা।
সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আপত্তি জানিয়ে আসছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, এটা বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। বাম দল সমর্থিত তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার আহ্বান জানিয়ে লংমার্চ করেছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছে। তবে প্রকল্প উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। অনেকেই চেঁচামেচি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রবিরোধীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, যারা চেঁচামেচি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদেরকে বলছি, সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। সুন্দরবনের ক্ষতি করে শেখ হাসিনা কোনো কিছু করবে না। সব ধরনের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সঙ্কটে থাকা বাংলাদেশ সরকার রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২০১১ সালে সমঝোতা স্মারকের পর ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে। এ কেন্দ্রের মালিকানায় রয়েছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি, যার সমান অংশীদার বাংলাদেশ ও ভারত। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ২২ অক্টোবর রামপালে এই প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন করা হবে। কিন্তু মনমোহন সিং ওই দিন উপস্থিত থাকতে পারবেন না জানানোর পর শনিবারই রামপাল কেন্দ্রের ভিত্তিস্থাপন করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।