আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘আল হাদীসের আলোকে মুহাম্মদ (সা.)’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রাহমান।
হাদীসঃ আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন- আল্লাহর নীর স্বভাব চরিত্র ও আচার-ব্যবহার ছিল আল কুরআনের বাস্থব নমুনা। (মুসলিম শরীফ)µ
হাদীসঃ উবাদাহ ইবনে ছামেত (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন- আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে এরকম বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি এ ঘোষণা করেছে যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তার জন্য আল্লাহ দোযখের আগুন হারাম করে দিয়েছেন। (মুসলিম শরীফ)µ
হাদীসঃ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যার হাতে মোহাম্মদের জীবন, তার কসম ও উম্মতের যে কেউ ইয়াহুদী হোক বা নাছারা আমার (নবুওয়াতের) কথা শুনবে অথচ যা নিয়ে আমি আগমন করেছি তাঁর প্রতি ঈমান না এনে মৃত্যু বরণ করবে সে অবশ্যই দোযখের বাসিন্দা হবে। (মুসলিম শরীফ)µ
হাদীসঃ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এরূপ- এক ব্যক্তি একটি সুন্দর সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করল। কিন্ত এক কোনে একটি উটের জাযগা খালি রেখে দিল। অতঃপর লোকেরা এসে অট্টালিকাটি ঘুে ঘুরে দেখেন এবং তারা বিস্মিত হয়ে বলতে থাকল ঐ ইটটি কেন লাগোনো হয়নি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন- আমিই সেই ইট, আমি শেষ নবী। (বুখারী শরীফ)µ
হাদীসঃ আব্দ্লুাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত! রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- আল্লাহ তায়ালা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে স্বীয় প্রতিটি সৃষ্টি সম্পর্কে পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং লাওহে মাহফুজে একতা লিখে দিয়েছে যে মোহাম্মদ (সা.) শেষ নবী। (মুসলিম শরীফ)µ
হাদীসঃ আনা (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- তোমাদের কেউ ইমানদার হতে পারবেনা, যতক্ষণ তার নিকট তার পিতা, মাতা, সন্তানাদি ও সমস্থ মানুষ অপেক্ষা আমি অধিকতর প্রিয় হব। (বুখালী শরীফ, মুসলিম শরীফ)µ
হাদীসঃ আনাস (রা.) হতে বর্ণিত তিন ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর স্ত্রীগণের নিকট তার ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য আসেন। যখন তাদেরকে তাঁর ইবাদতের বিষয় খবর দেয়া হল তখন তাদের নিকট ইবাদত পরিমাণ কম মনে হল। তারা ভাবলেন রাসুল (সা.) হতে আমরা কোথায়? কারণ, তার সকল পূর্বের ও পরের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। তণ তাদের একজন বলরেন, আমি সারা রাত (নামাজ) সালাহ আদায় করতে থাকব। দ্বীতিয়জন বলরেন আমি সারা দিন ছওম (রুযা) পালন করব। কখনও ইফতার করবনা।µ
তৃতীয় ব্যক্তি বললেন- আমি নারীদের থেকে দুরে থাকব। কখনও বিয়ে করবনা। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের সম্মুখে বের হলেন, এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস কররেন, তোমরা কি এরকম বলছ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশী ভয় করি এবং তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মুত্তাকী এতদসত্তে¡ও আমি সিয়াম পালন, রাতে সালাহ আদায় করি। রাতে ঘুমাই বিয়ে করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাত হতে মুখ ফিরাবে। সে আমার উম্মতের মধ্যে শামিল নয়। (বুখার শরীফ, মুসলিম শরীফ)
হাদীসঃ ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে এরূপ ঊর্ধে তুলনা যেমন করেছিল নাছারা জাতি ইসা ইবনে মারীয়াম কে। সুতরাং তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল বলে অবহিত করবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)µ
হাদীসঃ আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন নবী (সা.) এর অন্তিম কাল যখন ঘনিয়ে আসল, তখন তিনি তাঁর চেহারা মুবারক একটি চাদর দ্বারা মাঝে মাঝে ঢেকে ফেলতেন। আবার যখন কষ্ট অনুভব করতেন তখন খুলে ফেলতেন। এ অবস্থায় তিনি বললেন- ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের প্রতিট আল্লাহর অভিশাপ। তারা তাদের নবীদের কবরকে ইবাদতের স্থানে পরিণত করেছে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ।µ
হাদীসঃ জনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি- সাবধান! তোমাদের পূর্বে লোকেরা তাদের নবী ও নেক লোকদের কবরকে ইবাদতের স্থানে পরিণত করেছে। তোমরা কবরকে মসজিদে পরিণত করবেনা। আমি অবশ্যই তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি। (মুসলিম শরীফ)µ
হাদীসঃ আনাস (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ মিসকিন অবস্থা মৃত্যু দিও, মিসকিন অবস্থায় কিয়ামতের দিন দারিদ্রদের সাথে আমার হাশ করিও। আয়েশা (রা.) বললেন হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এ রকমের দোয়া কেন করলেন? হুজুর (সা.) বললেন, দরিদ্র লোকেরা ধনীদের চলিশ বৎসর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা! গরীবদেরকে ফেরাবে না যদিও খেজুরেরএকটি অংশও থাকে তা দ্বারা সাহায্য কর। হে আয়েশা! মিসকিনদেরকে ভালবাস এবং মিসকিনের নিকটবর্তী হও। তা হলে তোমার রব তোমাকে কিয়ামতে তার নিকটবর্তী করে দিবেন। (তিরমিযি শরীফ)µ
হাদীসঃ উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে বণিৃত। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতে শুনেছি-যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিলেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তার জন্য আল্লাহ দোযখের আগুন হারাম করে দিবেন। (মুসলিম শরীফ)।

Leave a Reply