যুক্তরাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। পতাকা প্রদর্শনের এই হিড়িককে অনেকে অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের একটি বহিঃপ্রকাশ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
‘অপারেশন রেইজ দ্য কালারস’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই প্রচারণার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠী ‘উলি ওয়ারিয়রস’-এর দাবি, এটি তাদের তরফ থেকে দেশ ও ইতিহাসের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি আন্দোলন।
উলি ওয়ারিয়রস তাদের তহবিল সংগ্রহের পাতায় জানিয়েছে, আমাদের ইতিহাস, স্বাধীনতা ও অর্জনের জন্য কতটা গর্বিত, তা তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। এই প্রচারণা একটি ইতিবাচক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্দোলন, যা দেশের প্রতি ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া বিভিন্ন পটভূমির মানুষকে একত্র করে।
লন্ডনের ৩২ বছর বয়সী বারটেন্ডার লিভভি ম্যাককার্থি বলেন, এটা আমাদের পতাকা, আমরা গর্বের সাথে এটি উড়াতে পারার কথা। তবে খেলাধুলার মতো জাতীয় ইভেন্টের বাইরে পতাকা ব্যবহারের একটি অস্বস্তিকর ইতিহাস আছে।
১৯৭০ এর দশকে উগ্র-ডানপন্থী ‘ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ দলটি ইউনিয়ন জ্যাককে (ব্রিটিশ জাতীয় পতাকার নাম) তাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করত, আর সেন্ট জর্জেস ক্রস ব্যবহার করত ইংরেজ ফুটবল সমর্থকদের চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো। এই ইতিহাস অভিবাসী এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অস্বস্তিকর অনুভূতির জন্ম দেয়।
টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো বহু-সাংস্কৃতিক এলাকায় বসবাসকারী ৫২ বছর বয়সী নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত স্ট্যানলি অরোনসায়ে পতাকার এই ব্যাপক ব্যবহারে অস্বস্তিবোধ করেন।
যদিও তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ কিছুতে রূপ নিতে পারে। তার এই আশঙ্কা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৬ বছর বয়সী শ্রীয়া যোশীর মধ্যেও দেখা যায়।
আশ্রয়প্রার্থীদের অবস্থানরত হোটেলের বাইরে হওয়া বিক্ষোভে পতাকা প্রদর্শন এই আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে সঙ্গে মিলে গেছে। যেমন, ক্যানারি ওয়ার্ফের ব্রিটানিয়া হোটেলের বাইরে এক বিক্ষোভে একটি সেন্ট জর্জেস ক্রস পতাকায় লেখা ছিল: ইংলিশরা ঘৃণা করতে শুরু করেছে, সব অবৈধ অভিবাসীকে বের করে দাও।
চলমান আন্দোলনকে নাইজেল ফারাজ এবং কনজারভেটিভ পার্টির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ রবার্ট জেনরিকের মতো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সমর্থন দিয়েছেন। জেনরিক যেসব কাউন্সিল পতাকাগুলো সরিয়ে ফেলছে তাদের ব্রিটেন-বিদ্বেষী বলে তকমা দিয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান বিতর্কের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী পতাকাগুলোকে জাতির ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে দেখেন, কিন্তু তিনি স্বীকার করেন যে কিছু মানুষ এগুলোকে বিভেদ সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করছে।
ব্রিটিশ পতাকার প্রচারণা এমন এক সময়ে গতি পেয়েছে যখন যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এক মাসিক জরিপ অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ থেকে অভিবাসন ইস্যুটি দেশের অর্থনীতির চেয়েও ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply