রুশনারা আলী এমপির আমন্ত্রণে ঐতিহাসিক ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শন করেছেন ১২ বছর বয়সী কমলগঞ্জের ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ লেখিকা ও টাওয়ার হ্যামলেটস সিভিক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত জয়নাব চৌধুরী।
যুক্তরাজ্যের প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এমপি রুশনারা আলীর আমন্ত্রণে জয়নাব চৌধুরী গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমে পরিদর্শন করেন ব্রিটিশ গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হাউস অব পার্লামেন্ট, যার মধ্যে ছিল ঐতিহাসিক হাউস অব কমন্স ও হাউস অব লর্ডস।
পার্লামেন্ট সফরে জয়নাব ব্রিটিশ রাজনৈতিক ও রাজপরিবারের দীর্ঘ ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হয়। হাউস অব লর্ডসের বিখ্যাত লাল বেঞ্চ ও সোফা, ঐতিহাসিক ভাস্কর্য, চিত্রকর্ম এবং ভবনের মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘Gunpowder Plot (১৬০৫)‘ -এর ইতিহাস এবং যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৫ নভেম্বর পালিত ‘Guy Fawkes Night‘/বনফায়ার নাইট-এর ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা। সে আরও ঘুরে দেখে হাউস অব কমন্স প্রেস গ্যালারি ও ঐতিহাসিক পোস্ট অফিস, পাশাপাশি রাজপরিবারের সদস্যদের ‘Lying-in-State’ বা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক স্থানগুলো।
রাজকীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ‘Monarch’s Throne’ -সহ পার্লামেন্টের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও আনুষ্ঠানিক স্থান দেখার সুযোগও হয় জয়নাবের।
জয়নাবের কাছে এই সফর ছিল কেবল একটি দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন নয়; বরং ইতিহাস, শিক্ষা, অনুপ্রেরণা ও গর্বের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
মাত্র ১২ বছর বয়সে সাহিত্য ও সমাজসেবায় নিজের পরিচিতি তৈরি করা এই তরুণীর জীবনে পার্লামেন্ট সফর যুক্ত করেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
রুশনারা আলী এমপি জয়নাবের অল্প বয়সে সাহিত্যচর্চা ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডে অবদানে অনুপ্রাণিত হন।
জয়নাব ইতোমধ্যে দুটি বই প্রকাশ করেছেন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসে অসামান্য কমিউনিটি অবদানের জন্য সিভিক অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। তরুণ বয়সেই তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের একজন অ্যাম্বাসাডর হিসেবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরেছেন।
জয়নাবের প্রথম বই ‘My Journey Through Cayley Primary’ মাত্র ১১ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়। বইটিতে তার প্রাথমিক বিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা উঠে এসেছে— ‘Life is an adventure, enjoy every moment.‘
তার দ্বিতীয় বই ‘A Leap into the Unknown’ মূলত প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষায় উত্তরণের সময় শিশুদের নতুন পরিবেশ, পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে লেখা।
জয়নাবের সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষা ও সমাজসেবার দীর্ঘ পারিবারিক ঐতিহ্য। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সঙ্গে পারিবারিকভাবে যুক্ত জয়নাব মিসেস রুনা বেগমের জ্যেষ্ঠ নাতনি, যিনি একজন সম্মানিত ডেপুটি হেড টিচার; এবং কমলগঞ্জের প্রতিষ্ঠিত তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠাতা জনাব হাসান চৌধুরীর কন্যা।
সাহিত্যচর্চা, কমিউনিটি সেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জয়নাব এখন নিজস্ব পরিচয়ে একজন তরুণ লেখক, কমিউনিটি অ্যাডভোকেট ও সমাজসেবী হিসেবে এগিয়ে চলছেন।
Leave a Reply