শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সাড়ে ৩ বছর পর সোমালি জলদস্যুদের কবল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বাংলাদেশের সাত নাব্কি। আমিরাত থেকে কেনিয়া যাওয়ার পথে মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী এমভি আলবেডো ২০১০ সালে ভারত মহাসাগরে ছিনতাই হওয়ার সময় ওই সাত বাংলাদেশি জাহাজটিতে ছিলেন। ছিনতাইয়ের পর জাহাজটি ডুবে গেলে নাবিকদের অন্য একটি জাহাজে তুলেছিল জলদস্যুরা। এতদিন ধরে জলদস্যুদের হাতেই আটক ছিলেন তারা।
সাত বাংলাদেশিকেই জলদস্যুরা ছেড়ে দিয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার বলেছে, জিম্মি থাকা নাবিকরা সুস্থ রয়েছেন এবং তাদের কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি নেয়া হচ্ছে। নাইরোবি পৌঁছানোর পর তারা হোটেলে থাকবেন, সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের দেখভাল করবে। সেখানে আগা খান হাসপাতালে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সোমালি জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত নাবিক জাকির হোসেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। শনিবার রাতে জাকির হোসেনের বড় ভাই রাশেদ কবির বলেন, শুক্রবার রাতে জাকিরের সঙ্গে মোবাইলে ফোনে কথা হয় তার। রাত সাড়ে ৮টার দিকে টেলিফোনে জাকির জানায়, তারা ১১ জন মুক্তি পেয়েছেন। এখন সেসহ সাতজন বাংলাদেশি কেনিয়ার দিকে যাচ্ছে।
ইরানের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন আলবেডো ছিনতাই হওয়ার সময় এতে ২২ জন নাবিক ছিলেন, তাদের মধ্যে সাতজন পাকিস্তানের, ছয়জন শ্রীলঙ্কার, একজন ভারতের এবং একজন ইরানের। মুক্তিপণ দিয়ে পাকিস্তানি নাবিক আগেই ছাড়া পান বলে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ জানিয়েছে। ভারতের নাবিক জলদস্যুদের হাতে বন্দি থাকা অবস্থায় মারা যান।
২০১০ সালে ছিনতাই হওয়ার পর জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ৭ জুলাই আলবেডো ডুবে যায়। এই নাবিকদের তখন ছিনতাই করা আরেকটি জাহাজ নাহাম-৩ এ তোলা হয় বলে ইইউ নেভাল ফোর্স জানিয়েছিল। ছিনতাইয়ের পর জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে তাদের স্বজনদের দাবির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা শুরু হয় এবং এলক্ষ্যে মেরিটাইম পাইরেসি অ্যান্ড হিউমেনিটেরিয়ার রেসপন্স প্রোগ্রামের (এমপিএইচআরপি) সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়, আলোচনা হয় মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গেও।
সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে সাধারণত মুক্তিপণ দিয়েই নাবিকদের উদ্ধার করতে হয়। তবে নীতিগতভাবে কোনো দেশের সরকারই জলদস্যুদের মুক্তিপণ দিতে পারে না। তাই স্বদেশী এই নাবিকদের উদ্ধারে এমপিএইচআরপি’র দ্বারস্ত হয় বাংলাদেশ সরকার। সংস্থার কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে চট্টগ্রামে গিয়ে জিম্মি নাবিকদের উদ্বেগাকূল পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন।