মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০

গাজা এখন মৃত্যুপুরী: নিহতের সংখ্যা ৫০২

গাজা এখন মৃত্যুপুরী: নিহতের সংখ্যা ৫০২

ফিলিস্তিন-শাসিত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের প্রায় একতরফা বর্বর হামলা আজ সোমবার চতুর্দশ দিনে গড়িয়েছে। এতে গাজায় ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা ৫০২ ছাড়িয়েছে। ৮ জুলাই থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলার ত্রয়োদশ দিন গতকাল রোববার সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়। এদিন দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। মধ্যপ্রাচ্য-সংকট নিয়ে আজ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার জরুরি বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে একটি নৃশংস পদক্ষেপ বলে তীব্র নিন্দা জানান। অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ সকালে গাজায় চালানো ইসরায়েলের বিমান হামলায় একটি পরিবারের নয়জন সদস্য নিহত হয়েছে। এর মধ্যে সাতজনই শিশু। এ ছাড়া একটি মোটরবাইকে চালানো হামলায় অপর এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আজকের প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে ১৪ দিনে ইসরায়েলের হামলায় ৫০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তিন সহস্রাধিক।

ইসরায়েলের দাবি, গতকাল অভিযানের সময় গাজার অভ্যন্তরে তাদের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে গাজায় শুরু হওয়া স্থল অভিযানের পর গতকাল পর্যন্ত ইসরায়েলের ১৮ জন সেনা নিহত হলো। গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গতকাল ইসরায়েলের বর্বরতার পর এই আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ওবামা। উভয় পক্ষের প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

গত তিন দিনের মধ্যে এ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ফোনে কথা বললেন ওবামা। সর্বশেষ ফোনালাপে ইসরায়েলের নিজের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি আজ মিসরের রাজধানী কায়রো যাচ্ছেন। সেখানে তিনি মিসর ও অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা করবেন।
মধ্যপ্রাচ্য-সংকট নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও কথা বলেছেন। তিনিও ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরায়েলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরায়েল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে—এমন দাবি তুলে ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ শুরু করে ইসরায়েল।

এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় অভিযান চালায় ইসরায়েল। তখন আট দিনের মাথায় মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর ও গাজা ২০০৭ সালের আগস্টে চলে যায় দুটি দলের নিয়ন্ত্রণে। সেই থেকে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ফাতাহ পশ্চিম তীরে ও খালেদ মেশালের নেতৃত্বে হামাস গাজা শাসন করছিল। এই অবস্থায় গত এপ্রিলে দুই দলের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী নতুন করে নির্বাচনের পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথা। কিন্তু হামাস-ফাতাহর চুক্তিকে ভালোভাবে নেয়নি ইসরায়েল। তাদের মতে, হামাস একটি জঙ্গি সংগঠন। হামাস-ফাতাহ জাতীয় ঐক্যের সরকার হলে সেই সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়ে দেয় ইসরায়েল।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের শুরু। এর পর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন সত্তা মেনে নিতে রাজি নয় ইসরায়েল।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026