সুমন আহমেদ: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন নিরিহ মানুষের বুকে গুলি চালাবেন না। এখনো সময় আছে জনগনের পক্ষে অবস্থান নিন। অবৈধ সরকারের অবৈধ নির্দেশ না মেনে বিবেককে জাগ্রত করুন। দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যে আন্দলন শুরু হয়েছে তা সফল না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। বহুদিন পর তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক এবং জাতিকে দিক নির্দেশনা দিলেন। ব্যতিক্রমী এক নীতি নির্ধারনী ও আন্দোলনের দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোবাবর গনতন্ত্র হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে আট্রিয়ামের হল ভর্তি নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে আর মুহুর্মুহু শ্লোগান আর গগণ বিদারী জ্বালাময়ী দৃপ্ত শপথে বলীয়ান বিএনপির নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, জনগণের জান মালের ক্ষতি যাতে না হয়- আপনাদের সেদিকে খেয়াল করতে হবে। ঢাকাকে সারা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। প্রয়োজনে এক অঞ্চলের সাথে অন্য অঞ্চলের সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। অবৈধ আওয়ামীলীগের সরকারকে একেবারে এক ঘরে করে ফেলতে হবে। যেকোন মুল্যে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সফল করে তুলতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে রাজপথে নামতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের আট্রিয়াম ব্যঙ্কুটিং হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত গণতন্ত্র হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সকলকে রাজপথে নামতে হবে।
তরুন প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তোমাদের মায়ের মতো তোমাদের কাছে আসতে পারছেন না । তোমাদেরকে মায়ের কাছে গিয়ে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করে আনতে হবে। তারেক রহমান দৃঢ় কন্ঠে বলেন শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। তারেক রহমান নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, গণতন্ত্র পুন:উদ্ধারে স্বৈরাচারী হাসিনার পতন ঘটাতে ময়দানে নেমে আসুন। আন্দোলনকে লক্ষ্যে পৌছাতে হবে। আন্দোলন থামানো যাবে না লাগাতার চালাতে হবে। ঢাকা শহরের এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা বিচ্ছিন্ন করে দিন। খেয়াল রাখবেন নিরীহ মানুষেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। লক্ষে পৌঁছাতে যা যা করা দরকার সব করবে তৃণমূল নেতা কর্মীরা ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।
রাজাকারদের সঙ্গে বরাবরই আওয়ামী লীগের সখ্য রয়েছে-ন অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আমার জিজ্ঞাসা-দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের জন্য তোমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলে তা কি হয়েছে? তা হলে পদ্মা-সেতুর কাজ বন্ধ হত না। নতুন প্রজন্মের প্রতি আমার আহ্বান তোমরা কোন বাংলাদেশ চাও? আমার দল সুযোগ পেলে এ বাংলাদেশে কালো বিড়ালের সুযোগ থাকবে না। অন্যায়কে অন্যায় বলা হবে। সরকার সমর্থক সাংবাদিকদের বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন , সাগর-রুনির নিষ্পাপ শিশু মেঘের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও আপনাদের সহকর্মীদের বিচার নিশ্চিত করতে সোচ্চার হন।
এসময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন আজ যদি আপনাদের মাকে এভাবে আটক করা হতো, তাহলে কী করতেন? রাজপথে নামুন। এর আগে, তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কায়সার এম আহমেদের পরিচালনায় সভায় অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম এ মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী ও তৈমুছ আলী প্রমুখ।
সভায় আরো বক্তৃতা দেন আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, সাবেক আহব্বায়ক এম এ মালেক, ব্যরিষ্টার মির হেলাল, তারেক বিন আজিজ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল হামিদ চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আখতার হোসেন, আহমদ আলী, যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মামুন, সহসাধারণ সম্পাদক মাহতাব, দপ্তর সম্পাদক ড. মুজিবুর রহমান, বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান পাপ্পু, যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব বিপ্লব পোদ্দার, ব্যারিস্টার আকরাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির আহমেদ শাহীন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, যুবনেতা আবজাল হোসেন, এসএম লিটন, দেওয়ান বাসিত, দেলোয়ার বিপু, সোহেল আহমেদ, মন্জুর আহমেদ খান, শাহরিয়ার জুনায়েদ, নুরুল আলী রিপন, টিপু আহমেদ, শাহীন আহমেদ, মাওলানা শামীম প্রমুখ।