শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় ১৭ দফা পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। এই সমস্যা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তি অনুসারে ১ লক্ষ শরণার্থী গ্রহণ করার জন্য রিসেপশন সেন্টার তৈরি করা হবে। রবিবার ব্রাসেলসে এক জরুরি সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ব্রাসেলসের সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১১ দেশ ও নন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩ দেশ অংশ নেয়। সম্মেলনে অভিবাসী সমস্যা কিভাবে মোকাবেলা করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়।
এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, গ্রিস থেকে জার্মানি পর্যন্ত রুটে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ১ লাখ স্থান তৈরি করা হবে। এগুলো স্থাপনে সহায়তা করবে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা। ৫০ হাজার স্থান তৈরি করা হবে গ্রীসে। আর ৫০হাজার মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়ার মতো বল্কান রাষ্ট্রগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়া রুটে। ১১ রাষ্ট্রের সম্মেলন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্য ক্লদ জাঙ্কার।
২য় বিশ্বযুদ্ধের পর সবথেকে বড় এ শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় এতো দিন নানা মতপার্থক্যের পর অবশেষে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। পরিকল্পনায়, সীমান্ত কার্যক্রম বিস্তৃত করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে দেশগুলো। শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া হবে নাকি ফেরত পাঠানো হবে সে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া স্থাপন করা হবে সীমান্তে।
এতে নিবন্ধনের সময় বাইয়োমেট্রিক তথ্যউপাত্ত পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে সেøাভেনিয়ায় ৪০০ পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শরণার্থীদের ঢলের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের সহায়তা করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে স্লভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিরো সেরার বলেছিলেন, তার দেশ ইইউ অংশিদারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য পাচ্ছে না। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত বল্কানে প্রায় আড়াইলাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছে।
ক্রোয়েশিয়া জানিয়েছে, শনিবার তাদের ভূখন্ডে প্রবেশ করেছেন ১১ হাজার ৫০০ মানুষ। হাঙ্গেরি তাদের সীমান্তে কাটাতারের বেড়া স্থাপনের পর শরণার্থীরা ক্রোয়েশিয়া অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। এরপর এটাই একদিনে সবথেকে বেশি সংখ্যক শরণার্থী প্রবেশের রেকর্ড।
খবরে বলা হয়, গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন ৯ হাজার অভিবাসী গ্রীসে এসে পৌঁছেছে। এই বৎসর এ হার সর্বোচ্চ হবে। এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে গ্রীস কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলকান দেশগুলোকে নিয়ে ৫০ হাজার শরণার্থী রিসেপশন সেন্টার খোলার ঘোষণা দিয়েছে। সেখান থেকে শরণার্থীরা স্ক্যানডেনেভিয়ান দেশগুলোতে যাবেন। এ তথ্য জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।