বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০

জনসমক্ষে মদ্যপান নিষিদ্ধ প্যারিসে

জনসমক্ষে মদ্যপান নিষিদ্ধ প্যারিসে

ইউরোপজুড়ে চলমান ভয়াবহ তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে একাধিক দেশ। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জনসমক্ষে মদ্যপান ও মদ বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং একই সময়ে শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত প্যারিসে জনসমক্ষে মদ্যপান নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত টেকঅ্যাওয়ে মদ বিক্রিও বন্ধ রাখা হবে। তবে লাইসেন্সধারী বার ও রেস্তোরাঁগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে যাতে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।

প্যারিসের পুলিশ প্রধান পাত্রিস ফোরে বলেন, ‘হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা প্রায় সীমায় পৌঁছে গেছে।’

তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে প্রতিদিনই নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রঁস জানিয়েছে, বুধবার রাতে দেশের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নঁতে শহরে রাতের তাপমাত্রা পৌঁছায় ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট সতর্ক করে বলেছেন, শুধু বয়স্ক নয়, তরুণরাও এই তাপপ্রবাহে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। তিনি জানান, তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগজনিত জটিলতা ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা বাড়ছে।

প্যারিসের অ্যাম্বুলেন্স সেবায় গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা দেখা গেছে। যদিও তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেন, রাজধানীতে মৃত্যুহার বাড়ছে। তিনি বিশেষ করে তরুণদের অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমরা কেউই অজেয় নই। গত সন্ধ্যায় আমি প্রায় একশ’ মানুষকে দৌড়াতে দেখেছি। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।

ফ্রান্সের প্যারিস অঞ্চলে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর কয়েকদিন আগেই দক্ষিণাঞ্চলীয় কারপঁত্রা শহরে একইভাবে দুটি শিশুর মৃত্যু হয়।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রেন শহরের জরুরি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লুই সুলাস জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে পাঁচ থেকে ছয়জনের মৃত্যুর সঙ্গে তীব্র তাপপ্রবাহের সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি বলেন, মৃতদের মধ্যে শুধু অতি বয়স্ক নয়, ৬০ বছরের বেশি বয়সীরাও রয়েছেন।

রেন শহরে সোমবার তাপমাত্রা ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং পরদিন তা বেড়ে হয় ৪১ ডিগ্রি, যা নতুন রেকর্ড।

এদিকে চরম গরমের কারণে ফ্রান্সের তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আবার শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। আটলান্টিক উপকূলে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেছেন, ‘ইউরোপের এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জলবায়ু সংকটের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে।’ তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বন সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের পাশাপাশি জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গেও তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙছে। জার্মানিতে শুক্রবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

চেক প্রজাতন্ত্রেও জারি করা হয়েছে চরম তাপপ্রবাহ সতর্কতা। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে।

স্পেনে চলতি সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দুহার শহরে তাপমাত্রা ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা জুন মাসের নতুন রেকর্ড। দেশটির সরকারি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত ২১৩ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

জার্মানিতে অতিরিক্ত গরমের কারণে হামবুর্গ হাফ ম্যারাথন বাতিল করা হয়েছে। দেশটির রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিনামূল্যে টিকিট বাতিলের সুযোগ দিচ্ছে। একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে চেক রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে তাপপ্রবাহ, দাবানল, পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন আরও বাড়ছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026