শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: একজন মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত তা নির্ভর করে তার বয়স, স্বাস্থ্য, ওজন, খাদ্যাভ্যাস ও ভূপ্রকৃতির ওপর। পুষ্টিবিজ্ঞানী ইলিসে শাপিরো বলেছেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন মানুষকে প্রচুর পানি পান করতে হবে।
শু
ধু ইলিসে কেন, সাধারণ মানুষও এ কথাটি জানেন আজকাল। বিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের মাংসপেশী ঠিকমতো কাজ করার জন্য, নিজেকে পানিশূন্যতা থেকে মুক্ত রাখতে, শরীরে শক্তি উৎপাদনে ও শরীরে তরল পদার্থের সঞ্চালনের জন্য পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা পর্যাপ্ত পানি পান করেন না তাদের দেখা দেয় মাথাব্যাথা, ত্বক শুকিয়ে যায়, দুর্বলতা-অবসাদ দেখা দেয়, মুখ শুকিয়ে যায়।
কিন্তু এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে তাহলে একজন মানুষকে সুস্থ থাকার জন্য কতটুকু পানি পান করা উচিত? এ প্রশ্নের উত্তরে ইলিসে শাপিরো কিছু তথ্য দিয়েছেন। বেশির ভাগ মানুষের উচিত দিনে আট গ্লাস পানি পান করা। কিন্তু তা সব সময় ঠিক নয়। কতটুকু পানি পান করবেন তা নির্ভর করে আপনার ওপর ও কতিপয় ফ্যাক্টরের ওপর। যেমন, আপনার বয়স, ওজন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাস। আপনি যত ভারি হবেন আপনার জন্য তত বেশি পানি দরকার হবে।
যদি আপনি গরম ও ভ্যাপসা স্থানে বসবাস করেন তাহলে আপনার উচিত হবে বেশি পানি পান করা। আর যদি আপনি একজন জিমন্যাস্টিক হন তাহলে অন্যদের তুলনায় আপনাকে অনেক বেশি পানি পান করতে হবে। গ্লাস মেপে যদি পানি পান করেন তাহলে গ্লাসের সাইজ এক্ষেত্রে একটি ফ্যাক্টর। গ্লাসগুলো এমন হতে হবে যেন প্রতি গ্লাসে আট আউন্স পানি ধরে। চা, ফলের জুস ও দুধের মতো তরল পানীয় আপনাকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে পারে।
কিন্তু মনে রাখবেন এক্ষেত্রে পানিই হচ্ছে সর্বোত্তম। ইলিসে শাপিরোর মতে, আমাদের দেহ সারাক্ষণ পানি হারাচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সময় পানি হারাচ্ছি। বাথরুমে গেলে পানি হারাচ্ছি। ঘুমের মাধ্যমে পানি হারাচ্ছি। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রেই আমরা পানি হারাই। এ জন্য যে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয় তা পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল উপায় হলো নিজের কাছে এক বোতল পানি রাখা। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি এক গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। বলেন, দুপুরে খাবার গ্রহণের আগে দু’গ্লাস পানি, রাতের খাবারের আগে দু’গ্লাস পানি পান করা উচিত। এতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ গ্লাস পানি পান করা হবে। এর বাইরে বাকি পানির চাহিদা তিন গ্লাস পানি পান করে মেটানো সম্ভব।