অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমতি পেতে যাচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ওএনজিসি)। এই দুটি ব্লকের সঙ্গে সাগরে আবিস্কৃত বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র কুতুবদিয়াও পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী ১৯৭৭ সালে আবিস্কৃত কুতুবদিয়া গ্যাসক্ষেত্রে ৪৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস রয়েছে। এসএস-০৪ ব্লকের সঙ্গে যুক্ত হিসাবে ‘বিশেষ প্যাকেজের’ আওতায় এই গ্যাসক্ষেত্রটির দায়িত্বও ওএনজিসিকে দেয়া হচ্ছে। এসএস-০৪ ব্লকে ২ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালাবে ওএনজিসি। দুটি অনুসন্ধান কূপ খননসহ এ প্রকল্পে তারা ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। আর এসএস-০৯ ব্লকে ২ হাজার ৮৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালানো হবে। তিনটি অনুসন্ধান কূপ খননসহ এ কাজে সাড়ে ৮ কোটি ডলার ব্যয় করবে ওএনজিসি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই চুক্তি হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে ১০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দেয়ার শর্তে। ৪ হাজার ৪৬৩ বর্গ কিলোমিটার থেকে ৭ হাজার ৬৯২ কিলোমিটার আয়তনের দুটি ব্লকে সাগরের গভীরতা ৩ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত।
ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা জানান, সেপ্টেম্বরে ওই দুটি ব্লকের উৎপাদন বণ্টন চুক্তি হতে পারে। তবে চলতি মাসেই এ ব্যাপারে প্রাথমিক সমঝোতা হতে পারে। দরপত্রে অংশ নেয়া একমাত্র কোম্পানি হিসেবে সাগরের এসএস-০৪ ও এসএস-০৯ ব্লকে অনুসন্ধান চালানোর এই অনুমোদন পেতে যাচ্ছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি।
ওএনজিসি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন সাফল্য না পেলেও পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ভাল কাজ দেখিয়েছে তারা। বাংলাদেশে অগভীর সাগরে গ্যাস পেলে বিদ্যুৎ, সার ও পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা স্থাপনের জন্য বিনিয়োগ করার কথাও ভাবছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ব্লকগুলো বাদ রেখে সাগরের ১২টি ব্লক ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সরকার সম্প্রতি অগভীর সমুদ্রে নয়টি ব্লকের জন্য দরপত্র ডাকে। পিএসসি সই করার মাধ্যমে শিগগিরই এসব ব্লকে কাজ শুরু করতে চায় পেট্রোবাংলা।
Leave a Reply