শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সীমান্ত থেকে আবার সেদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ।
বি
এনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দিতে তাঁর দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি সরকার, বরং রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাগুলোকে নাফ নদী থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় ছয়টি নৌকাবোঝাই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে আজ মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ওই ছয়টি নৌকা ফেরত পাঠানো হয়।
বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু জার আল জাহিদ সাংবাদিকদের জানান, গত সন্ধ্যা থেকে আজ ভোর পর্যন্ত টেকনাফের নাফ নদের চারটি পয়েন্ট দিয়ে মোট ছয়টি রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা ছোট-বড় নৌকা নিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।
এ সময় বিজিবির টহলদল তাদের প্রতিহত করলে তারা মিয়ানমারের দিকে ফিরে যায়। প্রতিটি ছোট নৌকায় ১০ থেকে ১৫ জন করে রোহিঙ্গা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমসহ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ৩৭ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি। গতকাল সকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত সময়ে এদের ফেরত পাঠানো হয়। এ সময় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে সহায়তায় তিন বাংলাদেশি দালালকেও আটক করে বিজিবি।
রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, রাখাইন প্রদেশে তাদের উপর ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যা করছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। তাই জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে তারা। তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও অনুরোধ করেছে। তবে বাংলাদেশ সরকার মনে করে, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং তাদের রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে আরো উদ্যোগ নিতে হবে।
মিয়ামনার সরকার অবশ্য দাবি করেছে, রোহিঙ্গাদের নয়, গতমাসে পুলিশ চেকপোস্টে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। তবে জাতিসংঘ মনে করে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা হচ্ছে তা একটি জাতিকে নির্মূল করার প্রয়াসের সঙ্গে তুলনীয়।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিভিন্ন স্যাটেলাইট ছবিও প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সেদেশের শান্তিতে নোবেল জয়ী জননেত্রী অং সান সূচি কী করছেন? নিজের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সরব সূচি অবশ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ নীরব।
তার তরফ থেকে সর্বশেষ খবর হচ্ছে, আগামী মাসে পূর্বপরিকল্পিত ইন্দোনেশিয়া সফর পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের রক্ষার দাবিতে সেদেশে বিক্ষোভ চলায় এবং জাকার্তায় মিয়ানমারের দূতাবাসে বোমা হামলার পরিকল্পনার কথা জানাজানি হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সূচি।
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত ত্রিশ হাজারের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার ত্যাগ করে অন্যত্র চলে গেছেন। তাদের একটি বড় অংশই অবস্থান করছে বাংলাদেশে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া হয় না।
ফলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ সাধারণ নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও পান না তারা। শুধু তাই নয়, স্বাভাবিক সময়েও মিয়ানমারে তাদের চলাফেরা বেশ সীমিত।