শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: চীনা নাগরিক (৪৫) কে আর্থিক বিরোধের জের ধরে খুন করা হয়েছে বলে মনে করছে। তাকে প্রথমে রড দিয়ে পিটিয়ে ও পরে ব্লেড দিয়ে কেটে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে রেখে দেয় খুনিরা। আর নিহত চীনা নাগরিকের গাড়ি চালক মামুন জানান, গাড়ির বিল হিসেবে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় চাং হিং সংকে হত্যা করেছে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে যশোর উপশহরের মহিলা কলেজের পাশে সেক্টর নম্বর ২, বাড়ি নম্বর ৩৪ থেকে চীনা নাগরিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মূলত চীন থেকে ইজিবাইকের ব্যাটারি আমদানি করে এ অঞ্চলে ব্যবসা করতেন। এই খুনের ঘটনায় চীনা নাগরিকের দুই সহকারী নাজমুল হাসান পারভেজ (২৬) ও তার ভাইপো মুক্তাদির রহমানকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদা ভিলা নামের তিনতলা বাড়িটির নিচতলায় চীনা নাগরিক চাং হিং সংকে টাকার জন্যে তার সহকারী নাজমুল ও নাজমুলের ভাইপো মুক্তাদির রড বা লোহার পাইপ জাতীয় কোনও বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত ও পিটিয়ে হত্যা করে। ব্লেড দিয়ে দেহ কাটে। বস্তায় ভরে লাশ টয়লেটে রেখে দেয়। এরপর তার মোবাইলফোন সেট নিজেদের কাছে অফ করে রেখে দেয়।
পুলিশ সুপার জানান, নিহতের স্ত্রী ঢাকায় থাকেন। তিনি রাতে কয়েকদফা ফোন করেও চাং হিং সংকে না পেয়ে নাজমুলকে ফোন দেন। তখন নাজমুল জানায়, ‘স্যারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’। সেইসময় তার স্ত্রী বিষয়টি থানায় অবহিত করতে বলেন।
এদিকে নিহতের ড্রাইভার মামুন জানান, মাত্র পাঁচশ’ টাকার জন্য চাং হিং সংকে খুন করেছে নাজমুল ও মুক্তাদির। তারা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ভাড়া বাবদ ৮০০ টাকা চেয়েছিল চীনা নাগরিকের কাছে। কিন্তু তিনি ৩০০ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। এর পরই ওই দুইজন তাকে হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, গভীররাতে নাজমুল কোতোয়ালি থানায় এ বিষয়ে জানাতে গেলে পুলিশ তাকেই সন্দেহ করে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মুক্তাদিরকে আটক করা হয়। তারাই পুলিশকে খুনের বিষয়টি জানায়। আটক দুজনের বাড়ি নেত্রকোণা সদরের চকপাড়া এলাকায়। রাত থেকেই ওই বাড়িটি পুলিশের নজরদারিতে ছিল।
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।