বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১

রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ওআইসি জরুরি বৈঠক আহ্বান

রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ওআইসি জরুরি বৈঠক আহ্বান

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের  রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতন বন্ধে দেশটির ওপর চাপ বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে মুসলিম দেশগুলোর জোট  ইসলামিক  ওআইসি।৫৭ রাষ্ট্রের জোট ওআইসি’র তরফে এ নিয়ে নিউ ইয়র্ক, ব্রাসেলস এবং জেনেভায় জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে ওই চাপ বাড়াতে চায় ওআইসি।

সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাসচিব ড. ইউসুফ এ আল-ওতাইমিন এরই মধ্যে নিউ ইয়র্ক, ব্রাসেলস ও জেনেভাস্থ ওআইসি স্থায়ী মিশনকে এ সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে।

ওআইসি মহাসচিব বলেছেন, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বাইরে মুসলিম সংখ্যালঘু ও সম্প্রদায়গুলোকে তাদের মর্যাদা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার্থে সহায়তা করার ম্যান্ডেট দেয় ওআইসি সনদ। মিয়ানমারে সম্প্রতি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ওআইসি আশা করেছিল রোহিঙ্গা মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধ হবে। তারাও সমঅধিকার ও স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারবে। হতাশার বিষয় হলো তেমনটা হয়নি।

মিয়ানমার সরকারকে এটা বুঝতে হবে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে তাদের অবস্থান শুধু সুযোগ নিয়ে আসে না, এর সঙ্গে দায়িত্বও বর্তায়।ওআইসি মহাসচিব জোর দিয়ে বলেছেন যে, জাতিসংঘ ও আসিয়ানের সদস্য হিসেবে মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই মানবাধিকার রক্ষার্থে প্রাসঙ্গিক চুক্তি ও ঘোষণাসহ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।

ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের টার্গেট করা, বাছ-বিচারহীন হত্যাকাণ্ড চালানো, গ্রেপ্তার করা, বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা এবং সামরিক বাহিনীর দ্বারা ব্যাপকহারে নারীদের ওপর নির্যাতন চালানোর যেসব রিপোর্ট এসেছে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। কেননা, এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল।

এদিকে কুয়ালালামপুর থেকে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান এবং রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন বন্ধে মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব বরাবরই সরব। ওই ‘গণহত্যা’র তীব্র নিন্দা করে তা বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব রাজাক।

মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো করতে চায় কুয়ালালামপুর। এ নিয়ে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি বৈঠকও দেখতে চায় দেশটির নেতৃত্ব। মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের খুন-ধর্ষণ, নির্যাতন ইস্যুতে আসিয়ান জোটভুক্ত দেশ দু’টির (মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া) মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন লেগেই আছে। রাখাইন পরিস্থিতি যত ঘোলাটে হচ্ছে ততই দেশ দুটির কূটনৈতিক টানাপড়েন প্রকট হচ্ছে।

মালয়েশিয়া থেকে পাওয়া রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, দলমত নির্বিশেষে মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে এখন এক মঞ্চে রয়েছেন। রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ না হলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করে ওই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসিকে আরো সক্রিয় দেখতে চায় মালয়েশিয়া।

এ নিয়ে দেশটির নেতৃত্ব মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সবচেয়ে বড় ওই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি বৈঠক আহ্বানের জন্য সংস্থাটির নতুন মহাসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন। ঢাকার ওই কর্মকর্তা বলেন, মালয়েশিয়ার অনুরোধ বা আহ্বানের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ওআইসি। সংস্থাটির তরফে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঢাকা আভাস পেয়েছে নিউ ইয়র্ক, জেনেভা ও ব্রাসেলসে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাঙিক্ষত বৈঠকটি হতে পারে। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠকের কোনো তারিখ বা সময়সূচি পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, রাখাইনে রোহিঙ্গারা দীর্ঘ কয়েক যুগ থেকে নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। গত ৯ই অক্টোবর রাখাইনে পুলিশ চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে সেখানে দেশটির সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করে। সন্ত্রাসী ধরার নামে তারা রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ওই এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। সেই তাণ্ডবে রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্বেষী বিভিন্ন চক্রও সক্রিয় হয়। ব্যাপক সহিংসতায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা রাখাইন রাজ্য।

সহিংসতা কবলিত ওই রাজ্যে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে ওই ঘটনায় প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। বাড়িঘর ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার নারী, পুরুষ শিশু। তারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের বিশেষ উপদেষ্টা বিজয় নামবিয়ার বিবৃতিতে বলেন, ‘উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অস্বীকৃতি এবং স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের বদলে রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করার কারণে ওই অঞ্চলে ও আন্তর্জাতিকভাবে হতাশা জন্ম নিয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে অভিবাসন বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা আইওএম। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সরকার রাখাইনে সহিংসতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সূচিকে রাখাইন পরিস্থিতি দেখতে জরুরি ভিত্তিতে উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026