বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: আজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন ১৯৭২ সালের এই দিনে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে রক্ষিত প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, পরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের প্রধান হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। এরপর দলের অঙ্গ, সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মহান এই নেতার প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতাসংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিই, এটাই হোক এবারের বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সকলের অঙ্গীকার। ’ আর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করি। সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। ’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঙালির অবিসংবাদী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে এক নির্জন কারাপ্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখা হয়।

বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। পরে আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর প্রথমে লন্ডন ও পরে ভারত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর দেশে ফেরার দিন রাজধানী ঢাকায় মানুষের ঢল নামে। তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি এবং তাঁকে স্বাগত জানাতে আসা আওয়ামী লীগের নেতারা কেউই অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে এক জনসভায় ভাষণ দেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমগুলোতেও বিশেষ আয়োজন থাকছে। সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৬টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে আওয়ামী লীগের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সংগঠনটির সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির অনুকরণে কর্মসূচির আয়োজন করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আয়োজিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভাসহ সব কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সংগঠনের সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ডিএমপির নির্দেশনা : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়েছে। গতকাল সোমবার ডিএমপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীবাহী বাস/গাড়ির রুট হবে নিম্নরূপ : কাকরাইল ক্রসিং, মৎস্য ভবন ক্রসিং, কদম ফুল ক্রসিং; শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন গেট এবং আইইবি গেট দিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম দিকে ছবির হাট গেট, টিএসসি গেট, কালীমন্দির গেট এবং তিন নেতার মাজার গেট দিয়ে সমাবেশে প্রবেশ করা যাবে।

বিজয় সরণি থেকে সমাবেশে আসা গাড়ি লাভ রোড দিয়ে মগবাজার ফ্লাইওভার হয়ে কাকরাইল চার্চ হয়ে বাঁয়ে মোড় নিয়ে রাজমনি হয়ে নাইটিংগেল ডানে মোড় নিয়ে ইউবিএল (পল্টন) হয়ে জিরো পয়েন্ট দিয়ে যাবে। মিরপুর রোড হয়ে আসা গাড়ি রাসেল স্কয়ার হয়ে সায়েন্স ল্যাব দিয়ে নিউ মার্কেট ক্রসিংয়ে বাঁয়ে মোড় নিয়ে নীলক্ষেত ক্রসিং দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে সভাস্থলে যাবে। মতিঝিল/সায়েদাবাদ/সদরঘাট থেকে সমাবেশে আসা গাড়ি হাইকোর্ট ক্রসিং দিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে সভাস্থলে যাবে।

সাধারণ যাত্রীবাহী বাস-গাড়ির রুট : বিজয় সরণির উত্তরের/পশ্চিমের সব যাত্রীবাহী বাস লাভ রোড হয়ে মগবাজার ফ্লাইওভার দিয়ে কাকরাইল চার্চ হয়ে রাজমনি ক্রসিং দিয়ে ফকিরাপুল/ইউবিএল হয়ে চলে যাবে। গুলিস্তান বা মতিঝিল থেকে আসা বিজয় সরণি অভিমুখী গাড়ি নাইটিংগেল দিয়ে রাজমনি ক্রসিং হয়ে কাকরাইল চার্চ দিয়ে মগবাজার ফ্লাইওভার হয়ে লাভ রোড দিয়ে বিজয় সরণির দিকে চলে যাবে।

গাবতলী থেকেত আসা গাড়ি মিরপুর রোড দিয়ে সায়েন্স ল্যাব হয়ে নিউ মার্কেট দিয়ে আজিমপুর হয়ে বকশীবাজার দিয়ে চানখাঁরপুল হয়ে বঙ্গবাজার দিয়ে গুলিস্তান/মতিঝিল/সদরঘাট চলে যাবে। গুলিস্তান/মতিঝিল/সদরঘাট থেকে গাবতলী অভিমুখী গাড়ি বঙ্গবাজার দিয়ে চানখাঁরপুল হয়ে বকশীবাজার দিয়ে আজিমপুর হয়ে নিউ মার্কেট দিয়ে সায়েন্স ল্যাব হয়ে মিরপুর রোড হয়ে গাবতলী যাবে।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে স্বাধীন বাংলাদেশ বিজয়ের পূর্ণতা পায়।

স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলা আড়াইটায় সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালির অবিসংবাদী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তাঁকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করা হয়। বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে প্রহর গুনছিলেন। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন।

আন্তর্জাতিক চাপে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ-বাতাস।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026