শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: তরমুজের বীজ খেয়েছেন কখনও? নিশ্চয় না।
আমেরিকার কৃষি অধিদফতর পরামর্শ দিচ্ছে, তরমুজের বীজ ফেলবেন না। তরমুজ কাটার সময় বীজগুলো একজায়গায় জড়ো করে ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে রেখে দিন।
দিনে যখন খুশি যেভাবে খুশি স্ন্যাক্স মনে করে খেয়ে ফেলুন। কিন্তু কেন খাবেন তরমুজের বীজ?
প্রোটিন: তরমুজের বীজ উচ্চমাত্রার প্রোটিনে সমৃদ্ধ। একজন ব্যক্তির সারাদিনে যে পরিমাণ প্রোটিন প্রয়োজন পড়ে, তার ৬০% আপনি পাবেন এককাপ (৩০.৬ গ্রাম) তরমুজের বীজে। শরীরের পক্ষে প্রয়োজনীয় নানা ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। তার মধ্যে একটা আর্গিনাইন। যার কাজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ। করোনারি হার্ট ডিজিজের চিকিত্সার ক্ষেত্রেও এটা একটা জরুরি উপাদান। এ ছাড়াও গ্লুটামিক অ্যাসিড, লাইসিন, ট্রিপ্টোফানের মতো প্রোটিন রয়েছে তরমুজের বীজে।
ভিটামিন-বি: বিভিন্ন ভিটামিন বি-ও রয়েছে তরমুজের বীজে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, খাবারকে এনার্জিতে পরিণত করতে সাহায্য করে ভিটামিন বি। এছাড়াও নানাবিধ জৈবিক প্রক্রিয়াতেও ভিটামিন বি-এর একটা গুরুত্ব আছে। নিয়াসিনের মতো জরুরি ভিটামিন বি আপনি পাবেন তরমুজের বীজে। যার কাজ হল স্নায়ুতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রকে রক্ষণাবেক্ষণ করা। এমনকী ত্বক ঠিক রাখতেও নিয়াসিন জরুরি। রয়েছে থিয়ামিন, রাইবোফ্লাবিন, ভিটামিন বি৬-ও।
মিনারেলস: খনিজের মধ্যে আপনি পাবেন ম্যাগনেসিয়াম। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ জানাচ্ছে, ম্যাগনেসিয়াম ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ছাড়াও কার্বোহাইড্রেটের বিপাকে সাহায্য করে। ফলে, ব্লাডসুগার এড়াতে তরমুজের বীজের গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়াও ফসফরাস, আয়রন, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও জিঙ্ক রয়েছে।
ফ্যাট: এককাপ শুকনো তরমুজের বীজে ৫১ গ্রাম ফ্যাট রয়েছে। এর ১১% হল স্যাচুরেটেড ফ্যাট। বাকিটা পলিস্যাচুরেটেড, মনোস্যাচুরেটেড এবং ওমেগা -৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে, মনো এবং পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করতে সাহায্য করে। ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে, মাথায় রাখতে হবে, এককাপ তরমুজের শুকনো দানায় রয়েছে ৬০০ ক্যালোরি।