শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: চুল পড়া বর্তমানে মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা। বয়স হলে চুল পড়বে আগে এমনটাই ধারণা অনেকের। কিন্ত না। বয়স্করা যেমন এই চুল পড়া সমস্যায় আক্রান্ত হন ঠিক তেমনি তরুণদের ক্ষেত্রেও চুল পড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
শু
ধু ছেলে নয় এই সমস্যা দেখা যায় মেয়েদের ক্ষেত্রেও। অনেক ক্ষেত্রেই কিশোরী মেয়েরাও চুল পড়া সমস্যায় আক্রান্ত হন। কিন্ত কেন এই সমস্যা? চুল পড়া সমস্যার প্রধান কারণ মাথার ত্বকের সাথে চুলের সংযোগ দূর্বল হয়ে যাওয়া। শুষ্ক চুলও চুল পড়ার অন্যতম কারণ।
যাই হোক চুল পড়া সমস্যা সমাধানে কি করবেন? জেনে নিনঃ
১। চুল পরিষ্কার রাখুন। কারণ চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ দূষণ বা নোংরা। নিয়মিত শ্যাম্পু করুন চুলে।
২। গবেষণায় দেখা গেছে যে , ভিটামিন ই এবং ভিটামিন ডি চুল পড়া রোধে সহায়ক। তাই বেশি করে ভিটামিন ই এবং ডি গ্রহণ করুন। সামুদ্রিক মাছ এক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী। বিশেষত সামুদ্রিক স্যামন মাছের চর্বি চুল পড়া রোধে সহায়তা করে।
৩। ভিটামিন সি চুলের গোড়ার ত্বক শক্ত করে। তাই বেশি করে ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করুন। যেমন আমলকি, পেয়ারা ইত্যাদি।
৪। আমলকির রস চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। তাই আমলকি থেকে রস বের করে তা নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে মাথায় লাগালে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
৫। পেয়াজের রস চুলের জন্য অনেক উপকারী। চুল পড়া কমাতে মাথায় লাগাতে পারেন পেয়াজের রস।
৬। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, যেকোন নেশা জাতীয় দ্রব্য চুল বা ত্বক উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। তাই যেকোন নেশাজাতীয় দ্রব্য যেমন সিগারেট, গাজা, মদ ইত্যাদি পরিত্যাগ করুন।
৭। বেশী করে লৌহ জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। কারণ লৌহ জাতীয় খাবার রক্তে লোহিত রক্তকণীকা তৈরীতে সাহায্য করে। আর লোহিত রক্তকণীকার প্রবাহ চুলের বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সহায়ক।
৮। চুল পড়া বন্ধে ক্যাস্টর অয়েল বিশেষভাবে কার্যকরী। নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে মাথায় নিয়মিত মালিশ করলে চুল পড়েয়া অনেকাংশে কমে যাবে।
৯। বাজারের অপরিচ্ছন্ন খোলা তেল ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
১০। হালকা গরম তেলে লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় মালিশ করলে চুল পড়া বন্ধে ভাল উপকার পাওয়া যায়।
১১। মাথায় ক্ষার জাতীয় পানি ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
১২। বেশি করে পানি পান করুন।
১৩। হেয়ার ট্রান্সপ্লেশনের মাধ্যমের মাধ্যমে নতুনভাবে চুল ফেরত আনা যায়। কিন্ত এ ধরণের কোন কিছু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
চুল পড়ার অনেক কারণ থাকলেও আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা হয় অনিয়মিত জীবনযাপন আর নিম্ন মানের প্রসাধনী দ্রব্য মাথায় ব্যাবহার করার কারণে। এসব দিক থেকে সতর্ক থাকুন। সুস্থভাবে বেচে থাকুন।