শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে কিডনি একটি। শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে কিডনির ভূমিকা অনেক। আজ বিশ্ব কিডনি দিবস। কিডনির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এই দিবসটি পালিত হয়।
এন
টিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৬৭২তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন দুজন চিকিৎসক। একজন অধ্যাপক মো. হানিফ। বর্তমানে তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশু কিডনি বিভাগে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।
অপরজন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু কিডনি বিভাগে অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন: সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও আজ বিশ্ব কিডনি দিবস উদযাপিত হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য আপনারা অনেক কর্মসূচিও নিয়ে থাকেন। কিডনির গুরুত্বটা কোথায়?
অধ্যাপক মো. হানিফ : কিডনি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ। অনেক ক্ষেত্রে এ রোগ কিন্তু আমরা প্রতিরোধ করতে পারি। কিডনি দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা যেন জনসাধারণকে, এমনকি আমাদের চিকিৎসক সমাজের সবাইকে সচেতন করতে পারি, এই রোগের ভয়াবহতা ও প্রতিরোধের বিষয়ে।
কারণ, কারো যদি কিডনি নষ্ট হয়, তার নিজের, তার পরিবারের, রাষ্ট্রের, সমাজের সবার যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়, সে ক্ষতি অর্থনৈতিকভাবে বলেন, তার মেধার ক্ষেত্রে বলেন, সেটি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য মানুষকে সতর্ক করে আমরা সচেতন করতে চাই।
প্রশ্ন: সচেতনতা কোন বিষয়ে?
অধ্যাপক মো. হানিফ : সচেতনতা দুটো বিষয়ে। একটি হলো রোগ নির্ণয় করা, কিংবা এই রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেই বিষয়ে। আরেকটি হলো একটি লোকের যখন অসুখ হয়ে যায়, তখন আমরা কীভাবে এই রোগকে খারাপ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারি।
যেমন : আমারা জানি যে একটি কিডনি রোগীকে অনেক ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস করতে হয়, ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়। অসুখ প্রাথমিকভাবে যখন হয় তখন আমরা পানি পান করতে বলি। কিংবা যেই পরিবারে অসুখটি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেই পরিবারের অন্য লোকদের ক্ষেত্রে আমরা বলি বেশি করে পানি পান করতে হবে। কারণ, কিডনি আমাদের শরীর থেকে দূষিত জিনিসটিকে বের করে দেয়। পানির সঙ্গে এটি বের হওয়া সহজ হবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা বলি পানি বেশি করে পান করতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ বড় একটি বিষয়। উচ্চ রক্তচাপ আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেখা যায়, বিশ্বে যতগুলো কিডনি নষ্ট হয়ে যায়, তার মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে হয় ৭০ ভাগ।
অধ্যাপক হাবিবুর রহমান : কিডনি দেহের অন্যান্য অঙ্গের মতো একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনির কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে, যা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিডনি উচ্চ রক্তচাপ ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা করে।
শরীরের যত দূষিত পদার্থ রয়েছে সেগুলো যেন শরীরে জমা হয়ে থাকতে না পারে, প্রস্রাবের সঙ্গে যেন বেরিয়ে যায় সেটি কিডনি করে।
এছাড়া শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য এবং তরলের ভারসাম্য কিডনির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। কিডনি থেকে কিছু হরমোন বের হয়।
যেমন: ভিটামিন ডি থ্রি। এর কারণে হাড়গুলো বড় হয়, অস্থি মজ্জা শক্তিশালী হয়।
ইরাথ্রোপ্রোটিন- এটি রক্তে লোহিত কণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এটি নির্গত হতে না পারলে মানুষ রক্তশূন্যতায় ভোগে। এটি কিডনি থেকে বের হয়। রক্তশূন্যতায় ভোগাও কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
প্রশ্ন: এই বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য কী?
অধ্যাপক হাবিবুর রহমান : বিশ্ব কিডনি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য- শিশুর স্থূলতা ও কিডনি রোগের সম্পর্ক।
প্রশ্ন: কিডনি রোগের সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক কী? এর সঙ্গে শিশুর স্থূলতার সম্পর্ক কী?
অধ্যাপক হাবিবুর রহমান : প্রথমে দেখা যাক স্থূলতা বলতে আমরা কী বুঝি ? স্থূলতা মানে ওজন ও উচ্চতার সামাঞ্জস্য না থাকা। উচ্চতার তুলনায় তার ওজন যদি অনেক বেশি থাকে, একে স্থূলতা বলে।
[youtube id=”F0jNoddDSw” width=”600″ height=”350″]