রাজনীতি ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয়বারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। শেষ মুহুর্তের বাজেট পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মেগা প্রকল্পে।
অ
বকাঠামো খাতে বিশেষ করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী ট্যানেল, ঢাকা-খুলনার ৪ লেন, এলেঙ্গা-রংপুরের ৪ লেন, দোহাজারী-ঘুমধুম ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণসহ বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রোববার এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেবেন বলে জানা গিয়েছে।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাজ করার জন্য এমপিরা বেশি করে বরাদ্দ চাইছেন এমপিরা । একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের জন্যই ২ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। সব দিক বিবেচনা করে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
এভাবে সব খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে নতুন এডিপিতে। এ ছাড়া বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা রাখা হচ্ছে ৩০ কোটি টাকা ও বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা প্রায় দ্বিগুণ করে রাখা হচ্ছে ১ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।
পরিবহনে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে প্রায় ২৭ শতাংশ বা ৪২ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বড় আকারের ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি বাজেটে বিশাল আকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি প্রাক্কলন করেছে। এর আকার হচ্ছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার। এর সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নও থাকছে ১০ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকার।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর মতে, সবমিলে নতুন এডিপির আকার ১ কোটি ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি। এর অনুমোদনের জন্য আগামী রোববার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভার আয়োজন করা হয়েছে। এনইসি চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর অনুমোদন দেবেন। সভায় উপস্থিত থাকার জন্য সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। সংশ্লিস্ট সূত্রে তা জানা গেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, চলতি অর্থবছরে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকার। এর সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়ন ধরা হয় ১২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার। সব মিলে এডিপির আকার ধরা হয় ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু প্রথমে উন্নয়ন কাজে গতি না আসায় প্রতি বছরের মতো মার্চে সংশোধন করে প্রকল্প সাহায্য ঠিক রেখে বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়ন কমিয়ে ধরা হয় ৮ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। ফলে এনইসি সভায় সংশোধিত এডিপির আকার ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র আরো জানায়, চলতি অর্থবছরের (জুলাই থেকে এপ্রিল) ১০ মাসে এ পর্যন্ত ৫১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। টাকার অঙ্কে হচ্ছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩ মাসে বাস্তবায়ন করতে হবে ৪৮ শতাংশ। বিশাল আকারের এডিপি নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নের এ হার নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন। তবে এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর এডিপি বাস্তবায়নের হার ভালো। আগামী ২ মাসেও এডিপি বাস্তবায়নের হার আরো ভালো হবে। কারণ হচ্ছে শেষের দিকে ঠিকাদারদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। আর বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আগামীতে বড় আকারের এডিপির আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের জন্য ১৩ মার্চ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এডিপি প্রণয়নের জন্য নীতিমালা জারি করা হলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১ লাখ ৭৭ হাজার ১১৮ কোটি টাকার চাহিদা পাওয়া যায়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ লাখ ২১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা ও প্রকল্প সাহায্য ৫৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। পরে অর্থমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির সভায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। আর প্রকল্প সাহায্য বা বিদেশি উৎস থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা। সব মিলে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার এডিপি চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ফাস্ট ট্র্যাকের আওতায় ১১ মেগা প্রকল্প সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বরাদ্দের দিক থেকে। কারণ হচ্ছে এসব প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দেখে থাকেন। এ জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ২৭টি খাতের মধ্যে পরিবহন তথা অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ৪১ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ২৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতুতে ৫ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা, মেট্রোরেলে ৩ হাজার ৪২৬ কোটি, কর্ণফুলী ট্যানেলে ১ হাজার ৫৭৪ কোটি, এলেঙ্গা-রংপুর ধীরগতির পৃথক লেনসহ ৪ লেনে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা, ঢাকা-খুলনা পৃথকলেনসহ ৪ লেনে ৩ হাজার ১০০ কোটি, ঢাকা এলিভেটেট এক্সপ্রেস নির্মাণে ৫০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরে থাকছে ৬০০ কোটি টাকা, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ৩ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। এভাবেই পরিবহন খাতকে দৃশ্যমান করার জন্য বেশি করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎখাতে ১২ শতাংশ বা ১৮ হাজার ৮৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। তৃতীয় শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ১৬ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বেশি বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এ জন্য বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে নতুন এডিপিতে। এ মন্ত্রণালয়ে ১৪ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।