শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ইসলামের দাওয়াত দিতে বাংলাদেশে আসা তাবলিগ জামাতের আট বিদেশি মেহমানকে অজ্ঞান করে তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল লুট করে নিয়েছেন এক দোভাষী প্রতারক। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আরিফুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্র
তারণার শিকার হয়েছেন চার বাংলাদেশিও। কাকরাইল কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে তাদের সঙ্গে আসা হাসান (৩০) নামে এক দোভাষী মঙ্গলবার রাতে রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সেনারবাদী জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটান। ঘটনার পর ওই প্রতারক পালিয়ে গেছে। অসুস্থদের আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
অজ্ঞান হওয়া তাবলিগের সদস্যদের মধ্যে তিন জন থাইল্যান্ড ও পাঁচজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক
দোভাষী হাসানসহ ১৫ সদস্যের এই জামাতে থাকা নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ইলিয়াছ মিয়া জানান, ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে এক সপ্তাহ আগে বিদেশিদের সঙ্গে তারা তাবলীগের দ্বীনি দাওয়াতে বের হন। বিদেশিদের সহায়তার জন্য কাকরাইল মসজিদ থেকে দোভাষী হিসেবে আসেন ফরিদপুরের বাসিন্দা হাসান।
প্রথমে তাবলীগ জামাতের এই দলটি আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রাম কেন্দ্রীয় মসজিদে তিন দিন অবস্থান করেন। সেখান থেকে রোববার সকালে সেনারবাদী জামে মসজিদে আসেন।
ইলিয়াছ মিয়া আরও জানান, মঙ্গলবার এশার নামাজ বাদ তালিম শেষে দোভাষী হাসান দুটি ফ্রুটো জুসের বোতল নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি ওই জুস নিজ হাতে সবাইকে খেতে দেন। এরপরই তারা সবাই একে একে অচেতন হয়ে পড়েন।
এ সুযোগে প্রতারক হাসান বিদেশিদের কাছে থাকা ডলার, দামী মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও নগদ বাংলাদেশি অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিয়ে পালিয়ে যান। তবে কত পরিমাণ টাকা ও কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে, তা জানাতে পারেননি ইলিয়াছ।
সেনারবাদি জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মাহবুবুর রহমান জানান, ফজরে মসজিদে প্রবেশ করতেই দেখি প্রধান দরজা খোলা। অন্য মুসল্লিরা মসজিদে আসছেন অথচ তাবলীগের ভাইরা কেউ জাগছেন না।
তিনি জানান, সন্দেহ হলে তাদের ডাকাডাকি করা হয়। তাতেও কাজ না হলে কাছে গিয়ে সবাইকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।