শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রন করার ব্যাপারে অনেকেই উদাসীন থাকেন। রোজা হয়ত আমাদের প্রিয় খাবার গুলো খাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়।
সা
রাদিন রোজা রাখার পর ইহা আমাদের প্রাপ্য তা নয় কি!
কিন্তু অপর দিকে শরীর স্বাস্থ্য কে সুস্থ্য এক নতুন উপায় তৈরি করে দেয় । যদি রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রন করতে চান তবে নিচের উপায়গুলো অনুসরন করতে পারেন।
রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রন করার উপায়
প্রচুর পরিমানে পানি খাওয়াঃ
সারাদিন রোজা রাখার পর আপনি হয়ত ভাবতে পারেন পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করা কিভাবে সম্ভব ! হা আপনি চাইলে তা অবশই সম্ভব।
-২ গ্লাস ইফতার এর সময় (রোজা ভাঙার সময় )
-৪ গ্লাস ইফতার এবং সেহরির মধ্যকার সময়
-২ গ্লাস সেহরির সময়
রোজার সময় পর্যাপ্ত পরিমান পানি শুধুমাত্র আপনাকে তৃষ্ণার্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবেনা , তার সাথে আপনার সুগার লেভেল কে নিয়ন্ত্রনে রাখবে ।
মনে রাখবেন কাফেইন আছে এমন পানীয় কফি বা রঙ চা এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় , ভাল হবে যদি আপনি এসব পানীয় পরিহার করেন । তার চাইতে হারবাল চা পানির বিকল্প এবং হজমে সহায়তা করতে পারে।
হালকা এবং পুষ্টিকর ইফতার গ্রহন করুনঃ
রমজানের সময় , আমাদের বিপাকতন্ত্র এর কাজ কমে যায় ফলে শক্তি ও কমে যায় । ইফতার আপনার সারাদিন এর উপোষ এর ভরপাই করতে পারবে না । ভুলে যান যে আপনি সারাদিন কিছু খাননি , মনে করুন আপনি রাতের খাবার গ্রহন করবেন এবং ওই অনুযায়ি এ খান ।
আপনার ইফতার শুরু করুন খেজুর দিয়ে , কেননা তা সুগার এর চাহিদা পুরন করবে । এক এর বেশি খেজুর খাওয়ার দরকার নেই কেননা তা সুগার লেভেল বেশি করে দিতে পারে ।তারপর আপনি সবজি সুপ খেতে পারেন , অবশ্যই ক্রিমযুক্ত পরিহার করবেন । এর সাথে ১-২ চা চামুচ অলিভঅয়েল যুক্ত সবজি সালাদ খেতে পারেন । ফাস্ট ফুড এবং চর্বি যুক্ত খাবার পরিহার করুন
খাবার শেষে আপনার সালাত আদায় করুন , ৫ মিনিট হাঁটুন। যখন আপনি আবার খাবার গ্রহন এর উপযুক্ত হবেন , মেইন ডিশ নিতে পারেন , অবশ্যই ভাজা পোড়া খাবার পরিহার করবেন। মওসুমি ফল ইচ্ছে মত গ্রহন করতে পারেন ।
সেহরি খাবার বাদ দিবেন নাঃ
আমরা অনেকেই আছে, অতিরিক্ত ইফতার এবং রাতের খাবার গ্রহন এর ফলে সেহরি খাবার থেকে বিরত থাকি যা মোটেও উচিত নয়। সেহরি বাদ দিলে আপনি সারাদিন তৃষ্ণার্ত, ক্ষুদার্ত অনুভব করবেন ফল স্বরূপ আপনি ইফতার অতিরিক্ত খেয়ে ফেলবেন।
আপনার সেহরি গ্রহন এর সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। আপনি যে খাবার খাচ্ছেন তা যেন সারাদিনের ক্ষুদা তৃষ্ণা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে। যথাসম্ভব প্রোটিন, ভিটামিন, আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করুন। দুধ, ডিম, ফল পর্যাপ্ত পরিমানে খান। এগুলো আপনার সুগার লেভেল কে নিয়ন্ত্রনে রাখবে পাশাপাশি আপনাকে ক্ষুদার্ত হওয়া থেকে বাঁচাবে ।
সক্রিয় থাকুনঃ
রোজা রাখার মানে এই নয় যে আপনি সারাদিন ঘুমিয়ে অলস ভাবে কাটিয়ে দিবেন। রমজানের সময় আপনার প্রাত্যহিক কাজ করুন পাশাপাশি সালাত নিয়ম করে আদায় করুন।
মনে রাখবেন আপনি খালি পেটে আগের চেয়ে বেশি চর্বি কমাতে পারবেন। ইফতারের ৩০ মিনিট পরে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করতে পারেন আপনি আপনার ট্রেইনারের সাথে পরামর্শ করুন।
মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করুনঃ
অনেকেই মনে করেন যে রমজানে ওজন বাড়ার কারন ইফতার, আসলে তা নয়। মুল কারন মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং পানীয়। রমজানে অন্য মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে ফলমূল খান। চিনির পরিবর্তে মধু ব্যাবহার করুন।