শীর্ষবিন্দু নিউজ: বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বাসিন্দা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তিন মুসলিম যুবককে জেল দন্ড দিয়েছে আদালত। শুক্রবার স্লারেশব্রোক কোর্ট তাদের এই জেল দন্ড প্রদান করে।
তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগে বলা হয়, ড্রাগ ডেলিভারির জন্য তারা হট লাইন সার্ভিস প্রদান করছিল বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এর তিন যুবক। তারা কাস্টমারদের জরুরী সার্ভিস প্রদানের জন্য ম্যাজিক কার্ড (বিজনেস কার্ড) প্রদান করত। কার্ডে লিখা ছিল যে কোন সময়, যে কোন জায়গায় ম্যাজিক সার্ভিস। ফোন আসামাত্র তারা ড্রাগ ডেলিভারী দিত।
কিন্তু মাত্র একমাসের ব্যবধানে গোয়েন্দা পুলিশের খপ্পরে পরে তারা। পুলিশ তাদের আটক করে। পরে তিন তরুনকে জেল দন্ড দিয়েছে আদালত।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিক হামার বলেন, এই নেটওয়ার্কের কোন সাবধানতা ছিল না। যে কেউ ফোন করলে তারা সেখানেই ড্রাগ নিয়ে যেত। এক মাসের ব্যবধানে তারা বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার কাছে ড্রাগ বিক্রি করে। এর পর তাদের আটক করা হয়
স্থানীয় একটি ইংরেজী পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে তাদের নিয়ে বিশাল রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে শনিবার। এতে বলা হয়েছে আটককৃতরা ফোনে অর্ডার নেওয়ার পর টাওয়ার হ্যামলেটস এর বাইরে হক্সটন এলাকায় এই হট লাইন সার্ভিস প্রদান করে আসছিল।
আটককৃত খসরু আব্দুল (২৩) ওয়াপিং এর রেইট স্ট্রিটেরর বাসিন্দা, আরিফ আহমদ (২১) ডোয়ার্ড স্ট্রিটের বাসিন্দা, ২১ বছর বয়সী করিম আব্দুল হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার হেনেজ স্ট্রিটের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায় আটককৃতরা বিজ্ঞাপন দিয়ে ড্রাগ ডেলিভারী করত। বিজ্ঞাপনে লিখা ছিল যেকোন সময় যে কোন জায়গায়। ফোন করার জন্য একটি নাম্বার প্রদান করত। আটকৃতরা এমডিমা, কেটামিন, কোকেন এবং গাঁজা বিক্রি করত।
পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা তাদেরকে দীর্ঘদিন অনুসরণ করে আটক করে। গত ৬ এপ্রিল আহমদকে তার ঘর থেকে আটক করে পুলিশ। তখন তার ঘর থেকে নগদ ৪ হাজার পাউন্ড, ১০০ বেশি বিজনেস কার্ড (ম্যাজিক হটলাইন) ও ৬ প্যাকেট সাদা পাউডার জব্দ করে।
করিম আব্দুলকে একই দিন আন্ডারকাভার অফিসার হক্সটন স্কয়ার থেকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছে এ ক্লাস ড্রাগ পাওয়া যায়। তার গাড়ী থেকেও ড্রাগ ও বিজনেস কার্ড উদ্ধার করা হয়। খসরু আব্দুলকে আটক করা হয় রমফোর্ড থেকে ১৩ এপ্রিল। এর মধ্যে আহমদকে ড্রাগ রিলেইটেড ১১টি অপরাধের জন্য সাড়ে৪ বছরের জেল, খসরু আব্দুল কে ৫টি অপরাধের জন্য ৫ বছর তিন মাস ও করিম আব্দুলকে ১১টি অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে সাড়ে ৪ বছরের জেল দন্ড প্রদান করেন।