শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ইস্ট লন্ডনের এক বাঙালি মিনিক্যাব ড্রাইভারকে ১২ বছরের জেলদন্ড দিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগে বলা হয়, তিনি এক মহিলা যাত্রীকে ধর্ষন, যৌন হয়রানি এবং বদ মতলবে পিছু নিয়েছিলেন। আদালতের শুনানিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার লন্ডনের স্নেয়ার্স ব্রুক ক্রাউন কোর্টে তার সাজার মেয়াদ জানানো হয়। এর আগে গত মে মাসে একই আদালতে বিচার চলাকালে মিনি ক্যাব ড্রাইভার সেজে অসহায় মহিলা যাত্রী ধর্ষন, যৌন হয়রানি, বদ মতলবে তাদের পিছু নেওয়ার ১৫টি অভিযোগে দোষি সাব্যস্ত হন তিনি।
জানা যায়, দন্ডপ্রাপ্তের নাম জাহির হোসেইন। বয়স ৩৭ বছর। বসবাস করেন টাওয়ার হ্যামলেটসের পপলারে। জাহির হোসেইন যখন এই কাজগুলো করেছেন তখন অফিসিয়ালি তিনি ক্যাবিংয়ে ছিলেন না। নির্ধারিত কাজের বাইরে গিয়ে তিনি মিনিক্যাব ড্রাইভার সেজে বদ মতলবে মহিলা যাত্রীদের তার গাড়িতে তুলতেন।
আদালতের শুনানিতে জানা যায়, একই রাতে এই দুই ঘটনার পর দিন গাড়ির নাম্বার প্লেট অনুসন্ধান করে পপলারের মরিস রোডের নিজের ঘর থেকে জাহির হোসেইনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শুনানি শেষে আদালত জাহির হোসেইনকে ১৫ বছর ৬ মাসের জেলদন্ড দিয়েছে। এছাড়াও তাকে সারা জীবনের জন্যে সেক্স অফেন্ডার হিসাবে তালিকাভুক্ত করার আদেশ দিয়েছে আদালত। তাকে অন্তত পক্ষে ১২ বছর জেল খাটতে হবে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, তার প্রথম শিকার হন ২৩ বছর বয়সের এক মহিলা। গত বছরের অক্টোবরে ইস্ট লন্ডনের ওল্ড স্ট্রীটে। মদ্যপ মহিলা মিনিক্যাব মনে করে জাহিরের গাড়িতে উঠেই ঘুমিয়ে পড়েন। আর এই সুযোগে তাকে দু’বার ধর্ষন করেন জাহির। ঘুম ভাঙ্গার পর মহিলা তার শরীরের কাপড় কাটা পান।
এই ঘটনার পর গত ২ ডিসেম্বরে আবার সেখানে যান দন্ডিত জাহির হোসেইন। রাত দু’টায় ৩১ বছরের এক মহিলাকে তার গাড়িতে তুলেন। এর আগে এই মহিলা তাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে, তিনি যে ক্যাব ডেকেছেন, এটা সেই ক্যাব কি না? এর উত্তরে মিথ্যা কথা বলেন জাহির।
তারপর এই মহিলাকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় প্রবেশ করেন। তাতে মহিলার সন্দেহ হলে তিনি কোন রকম নিজেকে রক্ষা করে পালিয়ে বাঁচেন। রাত ৪টার দিকে আবার ওই একই জায়গায় ফিরে আসেন জাহির হোসেইন।
এবার তার লালসার শিকার হন ২৯ বছরের এক মহিলা। মিনিক্যাব মনে করে গাড়িতে উঠেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেস্টা করেন জাহির। কিন্তু মহিলার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি তার শরীরের কাপড় কাটা পান।