মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯

বদনামের ভয়ে ক্যান্সারের কথা গোপন করেন দক্ষিণ এশীয় নারীরা

বদনামের ভয়ে ক্যান্সারের কথা গোপন করেন দক্ষিণ এশীয় নারীরা

গোপন রোগ ডেস্ক: সামাজিকভাবে বদনামের ভয়ে ক্যানসারের কথা গোপন করে থাকেন দক্ষিণ এশিয়ার অনেক নারী। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারীদের নিয়ে বিবিসি’ এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

উত্তরদাতাদের একজন বিবিসি’কে জানিয়েছেন, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর তার পরিবারকেও জানাননি। কারণ এটা শুনে পরিবারের সদস্যরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় তা নিয়ে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন। ফলে তিনি একা একাই কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। নিজের কষ্টটা নিজের মধ্যেই রাখছেন। অন্যদের তা বুঝতে দিচ্ছেন না।

অনেক সময়ই আক্রান্ত নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। ফলে এ রোগে তাদের মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। অথচ আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা নিলে হয়তো অনেককেই হয়তো বাঁচানো যেতো।

এক ঘটনায় দেখা গেছে, আক্রান্ত এক নারীর স্তন পুরোটাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি চিকিৎসা নিতে যান। কিন্তু ততদিনে এ রোগ তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা নিতে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।

বিবিসির ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন প্রাভিনা প্যাটেল নামের এক আক্রান্ত নারী। ৩৬ বছর বয়সে তার স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে।

তবে প্রাভিনা যেখানে বেড়ে উঠেছে সেই রক্ষণশীল ভারতীয় কমিউনিটিতে ক্যানসারের মতো রোগের বিষয়ে কথা বলাকেও লজ্জাজনক মনে করা হয়।

ফলে প্রাভিনা প্যাটেল-ও প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, তিনি নিজের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ার বিষয়টি গোপন করবেন। এক ধরনের হতাশাও কাজ করছিল তার মধ্যে।

প্রাভিনা প্যাটেল বলেন, আমার শুধু এটাই মনে হয়েছিল যে, কেউ যদি জানে আমার ক্যানসার হয়েছে, তাহলে তারা ধরেই নেবে আমার মৃত্যু অবধারিত। মানুষ বলতে শুরু করবে বাজে জীবনযাপনের কারণে ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছে।

নিজের অসুখের কথা গোপন রেখেই ক্যানসারের চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করেন প্রাভিনা প্যাটেল। ফলে কেমোথেরাপির সময় তাকে ‘চরম একাকীত্বে’ ভুগতে হতো। আর এসব দিনগুলো ছিল তার জীবনের একেকটি অন্ধকার মুহূর্ত।

বিবিসি’র এই গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান গবেষক ছিলেন পূজা সাইনি। তিনি বলেন, এই ইস্যু নিয়ে পর্যালোচনা করে যা পাওয়া গেছে সেটা রীতিমতো বিস্ময়কর। অনেকে চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত যান না।

কারণ, চিকিৎসা নিলে আর চুল পড়ে গেলে মানুষ তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জেনে যাবে। এছাড়া মায়ের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলে অনেকেই হয়তো তাদের সন্তানকে বিয়ে করতে চাইবেন না-এমন শঙ্কাও কাজ করে আক্রান্তদের মধ্যে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026