শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: থাইল্যান্ডের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক শিনাওয়াত্রাকে খুঁজছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ছয়টি দেশে তার খোঁজ করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে, ক্যাম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষের ধারণা শিনাওয়াত্রা এই দেশগুলোর কোনো একটি দিয়েই পালিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা মঙ্গলবার বলেন, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে উল্লিখিত ছয় দেশের কাছে কূটনৈতিক সহযোগিতা চেয়েছে। চেক করা হয়েছে দেশগুলোর সঙ্গে ত্থাইল্যান্ডের সকল ইমিগ্রেশন পয়েন্ট। এ খবর দিয়েছে থাই পত্রিকা দ্য ন্যাশন।
উল্লেখ্য, ভর্তুকি দিয়ে চাল কেনার এক কর্মসূচিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে করা এক মামলার রায়ের দিন আদালতে হাজির হননি তিনি। ওই দিনই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি।
খবরে বলা হয়, প্রায়ুত বলেন, থাইল্যান্ড এখনও বৃটেনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেনি। যদিও অনেকের ধারণা, ইংলাক সেখানেই রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে প্রায়ুতের ধারণা, বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার যোগ্যতা ইংলাকের নেই। ইংলাকের বর্তমান অবস্থান সবার কাছেই বা বিশ্ববাসীর কাছে এক রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।
থাইল্যান্ডের সেনাপ্রধান চালের্মচাই সিত্থিসাতের ধারণা, ইংলাকের পলায়ন আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। আগে থেকেই পালিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। তার ভাই থাক্সিন শিনাওয়াত্রার সাহায্য নিয়ে পালিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, থাক্সিন শিনাওয়াত্রাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং এখন দুবাইতে বসবাস করছেন। সিত্থিসাত বলেন, অন্যান্য সাধারণ মানুষের চেয়ে ইংলাক ব্যতিক্রম। তার হাতে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল। তার ভাই তাকে পালিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দিতে পারে। যেমন, একটি প্রাইভেট জেটের (ব্যক্তিগত বিমান) ব্যবস্থা করে দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইংলাক পালিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে থেকেই তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দিয়েছিলেন এবং সাধারণত যেই গাড়ি ব্যবহার করতেন তা ব্যবহার করাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, যদিও ইংলাকের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল না, তবুও তিনি আগেই ভেবেছিলেন ইংলাক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছন।
তিনি স্বীকার করেন, ইংলাকের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া থেকে এ বিষয় বোঝা যায় যে, জাতীয় শান্তি ও শৃঙ্খলা পরিষদ এবং সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে ত্রুটি রয়েছে।