বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪

স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসানো হলো: যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হতে পারে ২০১৮ সালে

স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসানো হলো: যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হতে পারে ২০১৮ সালে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: স্বপ্নের পদ্মাসেতু বাস্তব রূপ ধারণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। বসানো হলো সেতুর প্রথম স্প্যান। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই পদ্মা সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য কর্মকর্তারা।

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শরিয়তপুরে জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে বসানো হয়েছে প্রথম স্প্যান। যার ওপর দিয়ে যানবাহন চলবে। পিলারের পর পিলারে স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়েই সেতু পূর্ণ চেহারা পাবে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্প্যান বসানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব আনোয়ারুল ইসলাম ও পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সেতুর নির্মাণকাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রকৌশলীরা। প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম স্প্যান বসানোর তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

সেতু বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে অস্থায়ী বেয়ারিংয়ের ওপর এই স্প্যান বসানো হলো। পরে সুবিধাজনক কোনও এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজের উদ্বোধন করবেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের জনসংযোগ শেখ ওয়ালিদ জানান, শনিবার ভোর থেকেই পিলারের ওপর স্প্যান তোলার কাজ শুরু হয়। সকাল ৮টা নাগাদ স্প্যান ওপরে তোলা হয়। এর আগে গত দুইদিন পিলারের ওপর বেয়ারিংয়ের কাজ ও পিলারের কাছে ড্রেজিং করা হয়। তবে সম্পূর্ণরূপে সুপার স্ট্রাকচারটি বসাতে আরও সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রমত্তা পদ্মার প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে চলছে নির্মাণযজ্ঞ। নদীর তলদেশে মাটির স্তরের গঠন নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোতকে উপেক্ষা করে এ নির্মাণযজ্ঞ চলছে। এসব প্রতিকূলতা জয় করে মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে পদ্মার দুই পাড়ে। জাজিরা অংশে সব পিলারের পাইলিংয়ের মাটি পরীক্ষার কাজও শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম আরও জানান, প্রথম স্প্যানটি অস্থায়ী বেয়ারিংয়ের ওপর বসানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর রঙ হবে সোনালী। তবে রাতে সেতুটিতে জ্বলবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ বাতি। সেভাবেই সেট করা হবে বাতি। পদ্মা নদীর পানির স্তর থেকে ৫০ ফুট উঁচুতে বসবে প্রতিটি স্প্যান।

তিনি জানান, মূল নদীর মধ্যে ১৫০ মিটার পর পর ৪২টি পিলারের প্রতিটি পিলারে ৬টি করে মোট ২৫২টি পাইল থাকছে। এর মধ্যে ২৮টি পাইলের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। ৫৮টি পাইলের কাজ শেষ হয়েছে ৫০ ভাগ। এই মুহূর্তে ৫টি স্প্যান বসানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা স্প্যানের লোড টেস্ট করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি শ্রমিক-প্রকৌশলীরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই মহাযজ্ঞ। তদারকিতে যুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল।

চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে এই সেতু দৃশ্যমান করতে স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও বিভিন্ন টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। অবশেষে নির্মাণকাজ শুরুর প্রায় দুই বছর পর আজ শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উঠলো সেই স্প্যান।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026