বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫

রক্তক্ষরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

রক্তক্ষরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: রক্ত হলো এক প্রকার তরল পদার্থ এর রং লাল। হিমোগ্লোবিন নামক লাল রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে রক্তের রং লাল দেখায়। শরীরের কোনো স্থানে আঘাতের ফলে বা কেটে গেলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, এবং সেই ক্ষত হতে যে রক্ত বের হয়, তাকে রক্তক্ষরণ বা রক্তপাত বলে।

বিভিন্নভাবে রক্তক্ষরণ হতে পারে যেমন-মুখ দিয়ে রক্ত পড়া: মুখের ভিতরের যে কোনো অংশ থেকে রক্তপাত হলে বরফ চুষতে হবে। তাহলে রক্তপাত বন্ধ হবে। এরপর রোগীকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হেব।

নাক দিয়ে রক্ত পড়া: আঘাতজনিত বা অন্য কোনো কারণে কারো নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলে তৎক্ষণাৎ তাকে চিত করে শোয়াতে হবে অথবা বসিয়ে মাথা পেছনের দিক হেলিয়ে রাখতে হবে। কাপড়চোপড় ঢিল করে দিতে হবে। নাকের সামনে ও ঘাড়ের পিছনে ঠাণ্ডা কমপ্রেস দিতে হবে। তখন মুখ দিয়ে শ্বাসকার্য চালাতে হবে। রক্তপাত বন্ধ হবার পরও কিছুক্ষণ নাকের ছিদ্রপথে তুলো দিয়ে রাখতে হবে।

শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে: কাটা স্থানটি কিছুক্ষণ পরিষ্কার হাতে চোপে ধরতে হবে। রক্ত বন্ধ হলে ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে লাখতে হবে। সাধারণত তিনটি উৎস থেকে রক্তপাত হয়। যথা- কৈশিক নালি-একটানা স্রোতের ন্যায় রক্ত বের হয়। শিরা- গলগল করে রক্ত বের হয় এবং ধমনী- ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়।

কোনো বস্তু ঢুকে রক্তপাত: শরীরে কোনো বস্তু ঢুকে রক্তপাত হলে যা করবেন ক্ষতস্থানের পাশ চেপে ধরুনতবে ক্ষতস্থানের ওপর চাপ দেবেন না। ক্ষতস্থান ও বস্তুটির উপর আলত করে গজ বা কাপড় মুড়িয়ে দিন। বস্তুটির চারদিকে ক্ষতস্থানের ওপর প্যাড ব্যবহার করে ব্যান্ডেজ বাঁধুন।

ক্ষতস্থান থেকে বস্তুটি তুলে ফেলার চেষ্টা করবেন না। হাত বা পায়ের ক্ষেত্রে ক্ষত আঙ্গুল উঁচু করে ধরুন। যদি মনে হয়, আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গের হাড় ভেঙে গেছে তাহলে অঙ্গটি নড়াচড়া বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করুন। হাত বা পায়ের ক্ষেত্রে ঘন ঘন আঙ্গুল ও পায়ের পাতা উষ্ণ আছে কিনা পরীক্ষা করুন।

রক্তপাতের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যা করা হয় তা হলো- রোগীকে বসানো ও শোয়ানো যায় এমন স্থানে স্থানান্তর করতে হবে। এতে রক্তপাত আপনা-আপনি কমে যাবে। যে স্থানে হতে রক্তপাত হচ্ছে, সে স্থান হৃৎপিণ্ডের সমতার উপর তুলে ধরলে রক্তপাত অনেকটা কমে যাবে।

সামান্য কেটে গেলে ওই স্থানে রক্ত জমাটবেঁধে আপন-আপনি রক্তপাত বন্ধ হয়। কাটা স্থালে বৃদ্ধাঙ্গুলির চাপ প্রয়োগ করলে অনেক সময় রক্তপাত বন্ধ হয়। আহত অঙ্গের নড়াচড়া বন্ধ করতে হবে। রক্তপাতের স্থানে বরফ ব্যবহার করতে হবে। রক্তপাত বন্ধের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ দিতে হবে।

ক্ষতস্থান পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধতে হবে। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে নিতে হবে। বেশি রক্তপাত হলে টুর্নিকেট ব্যবহার করতে হবে। টুর্নিকেট অর্থ হলো প্রাথমিক বাঁধনকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শক্ত করে তোলা। ক্ষতস্থানে ঢিলা করে বেঁধে তার ভিতরে একটি কাঠি বা পেন্সিল ঢুকিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে ঘুরালে বাঁধনটি ক্রমশ শক্ত হয়ে রক্তপাত বন্ধ হয়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026