সাংবিধানিক শুণ্যতা সৃষ্টি হলে অপশক্তির উদ্ভব হবে। একারণেই জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ি-ই হতে হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়মী লীগ বাকশালের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষনে দলের চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ আমিরুজ্জামান একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ধনবাদ, সমাজবাদ,গণতন্ত্রবাদ ও ধর্মের মধ্যকার হানাহানি রক্তপাত বন্ধ করে মানবজাতির জন্য শান্তিময় পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি তথা জাতীয় অর্থনীতির মুক্তি সনদ ঘোষণা করেন। যতদিন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে শোষণমুক্ত সমাজ বাস্তাবায়ন না হবে মুক্তি সংগ্রাম ততদিন চলবে।
আলোচনা অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এম এম আকাশ বলেন, যে উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেছিল সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হলে দেশ আরো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হতো। তিনি, সব মানুষের সমঅধিকার এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেই সোনার বাংলা গড়ে তোলার আগেই ঘাতকরা তাকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
পার্টির মহাসচিব কাজী মোহাম্মদ জহিরুল কাইয়ুম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমাজতন্ত্রের আলোকে সমবায় ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কলঙ্কজনক হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাকশাল নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি রয়েছে। সত্যিকথা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু দেশের সব মানুষকে বৈষম্য বিভাজন না করে এক কাতারে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। অধিকাংশ মানুষের আর্থিক ক্ষমতায় সমতা আনার কাজ শুরু করেছিলেন। তার হত্যার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের যবনিকা ঘটে।
আজমী পাশা বলেন, বাকশাল সৃষ্টির চিন্তাধারা ছিল সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে। সব মানুষ সমমর্যাদা পাবে। তাদের আর্থসামাজিক অবস্থা সমপর্যায়ের থাকবে। সেই অবস্থা আর তৈরি হয়নি। দেশের উন্নতি হলেও সেই চিন্তাধারায় ছিলনা বিগত সরকারগুলো। আমাদের অর্থনীতি বাড়লেও শ্রম বিভাজন রয়েছে। দেশেকে আরো এগিয়ে নিতে হলে আমাদের অবশ্যই কৃষক শ্রমিক মানুষের কথা ভাবতে হবে। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, আব্দুল্লাহ আল হারুন, গনি মিয়া, হোসনে আরা হিরা প্রমুখ।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার মধ্যে ছিল সকাল ৯ টায় নিজস্ব কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন । এছাড়া ধানমন্ডিস্থ ৩২নং জাদুঘরে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ ও সালাম প্রদর্শন কা হয়।
– প্রেস বিজ্ঞপ্তি