আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: আশ্চর্যই বটে, মিয়ানমার বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ফেরত তো নিচ্ছেই না, উপরন্তু মিথ্যাচার করছে যে, বাংলাদেশের অসহযোগিতার কারণেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
মে মাসের শেষদিকে জাপানে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার অফ এশিয়া’ সম্মেলনের একটি সেশনে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মিথ্যাচার করার প্রেক্ষাপটে বুধবার বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে ব্রিফিং শেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক, এটাই আমরা চেয়েছি; কিন্তু মিয়ানমার বারবার কথা দিয়েও কথা রাখছে না।
বলাবাহুল্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ কথায় কোনো অতিরঞ্জন নেই। গত বছরের জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং দুই বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা হয়নি।
এরপর বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হবে, সেটাও হয়নি। কিছুদিন আগে মিয়ানমারে চতুর্থ যৌথ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিয়েছিলেন, সেখানেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের।
অথচ এতকিছুর পর মিয়ানমার বলছে, বাংলাদেশের অসহযোগিতার কারণেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে অসহযোগিতা করছে– এ কথা যুক্তির ধোপে টিকে না। কারণ রোহিঙ্গারা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের জন্য তৈরি করেছে নানা সংকট।
কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন পরিবেশ–প্রতিবেশের ওপর নেমে এসেছে বিপর্যয়। রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
সংঘটিত হচ্ছে মানব পাচার ও মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অপরাধ। এরূপ অবস্থায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চায় না– এ এক হাস্যকর যুক্তি।
বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ভার বহন করতে পারছে না, এ ভার যত দ্রুত লাঘব করা যাবে ততোই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল।
মিয়ানমারকে বন্ধ করতে হবে মিথ্যাচার। সত্যের পথ ধরে শুরু করতে হবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া। আমরা প্রথম থেকেই লক্ষ করছি, মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রশ্নে নানারকম ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।
সম্প্রতি দেশটির ডি–ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছেন, মুসলিম জনগোষ্ঠী তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, তারা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। এ অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে হবে মিয়ানমারকে। বিশ্ববিবেক রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমে ফিরে যাওয়ার পক্ষে কথা বলছে, অথচ মিয়ানমার সরকার তাতে গা করছে না।
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু না করলে বাংলাদেশকে বাধ্য হয়েই আন্তর্জাতিক আদালতের আশ্রয় নিতে হবে। কারণ রোহিঙ্গারা আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের জন্য এক মহাবিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে।