শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: জীবনকে উপলব্ধি করতে কফিনে শুয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় চালু আছে ‘জীবিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’। হাইয়োউন নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার মানুষকে মৃত্যুর ভান করে জীবনকে আরও বেশি করে উপলব্ধির এ অভিনব মানসিক থেরাপি দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে আয়োজন করা এ ধরনের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ৭৫ বছর বয়সী চো জায়-হী নামে এক নারী জানান, আপনি এভাবে মৃত মানুষের মতো কফিনে শুয়ে দেখুন, জীবন সম্পর্কে আপনার উপলব্ধি আরও বাড়বে।
কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করা পর্যন্ত প্রায় ১০ মিনিট এভাবে কফিনে মৃত্যুর ভান করে শুয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চুই জিন-কিয়ার মতে, এভাবে কফিনে শুয়ে তার জীবনাচরণে বেশ পরিবর্তন এসেছে।
২৮ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী বলেন, আগে তিনি পাস করে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চাকরির বাজারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কথা ভাবতেন। কিন্তু কফিনে শুয়ে তার চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে।
এমনকি তিনি আর চাকরির কথা ভাবছেন না। একটা ছোটখাটো ব্যবসা করে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চান তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা ও কর্মজীবন নিয়ে উচ্চাশা থাকে। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের হার বাড়ায় তাদের সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মহত্যার হার ছিল প্রতি এক লাখ মানুষে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা বিশ্বের গড় হার ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশের প্রায় দ্বিগুণ।
হিলিং সেন্টারের প্রধান জং ইয়ং মুন বলেন, শেষকৃত্য প্রতিষ্ঠান হিওয়োন জীবিতদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে তাদের জীবনের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।