সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১৬

ভাইরাসের কারণে চীন বিমুখ রাশিয়া: ঝুঁকছে মরক্কো, তুরস্কের দিকে

ভাইরাসের কারণে চীন বিমুখ রাশিয়া: ঝুঁকছে মরক্কো, তুরস্কের দিকে

শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ইতোমধ্যেই দেশটির বহু কারখানা ও দফতরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের জন্য চীনের বিকল্প হিসেবে মরক্কো ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে মস্কো।

বুধবার রাশিয়ার ফুড প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান দিমিত্রি ভোস্ট্রিকভ এ তথ্য জানান। রুশ সংবাদমাধ্যম তাস-এর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

দিমিত্রি ভোস্ট্রিকভ জানান, এই মুহূর্তে চীন থেকে রাশিয়ায় শাকসবজি, ফলমূল ও সামুদ্রিক খাবার রফতানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তবে মরক্কো ও তুরস্কের মতো দেশগুলো সহজেই চীনের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।

করোনা ভাইরাসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় ইতোমধ্যেই অনেক দেশ চীন থেকে পণ্য আমদানি স্থগিত করেছে।

দিমিত্রি ভোস্ট্রিকভ জানান, ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তার দেশ চীনের কাছ থেকে ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের শাকসবজি আমদানি করেছে। আমদানিকৃত শাকসবজির পরিমাণ চার লাখ ৫৩ হাজার টন। এ তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইসরায়েল ও তুরস্ক।

এদিকে নিজেদের চীনা কারখানার কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এয়ারবাস। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে প্রাণহানি প্রায় ৫০০-তে পৌঁছানোর পর বুধবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এয়ারবাসের ফাইনাল অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টটি চীনের তিয়ানজিয়ানে অবস্থিত। সাময়িকভাবে ওই প্ল্যান্টটির কার্যক্রমই বন্ধ করে দিয়েছে এয়ারবাস।

ইউরোপের একাধিক দেশের মালিকানাধীন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ১৯৭০ সালের ১৮ ডিসেম্বরে এটি কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৭ সালে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের চেয়ে ভালো ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, এয়ারবাস ক্রমাগতভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। উৎপাদন ও বিতরণে যে কোনও সম্ভাব্য প্রভাবের ওপর নজর রাখে। প্রয়োজনে বিকল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে চীনের মূল ভূখণ্ডে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজেদের সব অফিসিয়াল শোরুম ও কর্পোরেট কার্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয় আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ সতর্কতা ও শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা চীনে অবস্থিত অ্যাপলের কর্পোরেট অফিস, শোরুম ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখছি।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। দ্রুত এটি দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাবে ইতোমধ্যেই দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু চীনের উহান শহরেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটি প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চীনা কারখানা ও দফতরগুলো। এরই মধ্যে অনেক কোম্পানি তার কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যেই চীনের ৩১টি প্রদেশের সবগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025