টেলিভিশনের আকার-আকৃতি ও সুবিধা বাড়লেও এর দর্শক বাড়েনি। অর্থাৎ টিভির সাইজ যতই বাড়ুক মানুষকে আকর্ষণ করতে পারছে না। টেলিভিশন হয়ে উঠেছে বিকৃতির আকৃতি। যে কারণে ৩২ থেকে ৮০ পর্যন্ত নানান আকৃতির টেলিভিশন থেকে মানুষ চলে গেছে ৪.৫ ইঞ্চি থেকে ৬.৫ ইঞ্চি আকৃতির যন্ত্রে; যার নাম মোবাইল ফোন। এ ক্ষুদ্র যন্ত্রে আবার হাজার হাজার চ্যানেল; যার নাম ইউটিউব।
যেখানে বিষয়ের অভাব নেই আবার বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণা নেই। এখানেই এখন মানুষ বিনোদন খুঁজে নেয়। তবে এ ক্ষেত্রেও নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ; যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর । কারণ আমরা এর উপযুক্ত ব্যবহার না করে অপব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি! অনলাইনের কল্যাণে এখন দেশে-বিদেশে অসংখ্য প্রচার মাধ্যম। এর কোনোটা উত্তম কোলটা মধ্যম, কোনোটা অধম। অনলাইনের প্রচারে কমবেশি কেউ আলোচিত, কেউ সমালোচিত, কেউ প্রশংসিত। টিভিতে তবু প্রিভিউর ব্যবস্থা আছে কিন্তু এখানে নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ, কোনো সেন্সর।
সুতরাং এখনই লাগাম টেনে ধরতে হবে। এখানেও কিছু নীতিমালা প্রয়োজন, যাতে আমরা মিথ্যাচার, অশ্লীল, রুচিহীন এবং সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারি। চমৎকার কিছু দেখলে মনটা শান্ত হয়, কিন্তু চমক কখনো কখনো মনকে অশান্ত করে তোলে। প্রশান্ত মনে দেখতে বসে অশ্রান্ত চমকের কথা শুনে ভ্রান্ত ও অশান্ত হতে চাই না। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের সম্পদ এবং সামাজিকতা আমাদের জাতিসত্তার পরিচয়। আত্মপরিচয়ের এ অহংকার আমাদের বাঁচিয়ে রাখতেই হবে। আর সেজন্য মিডিয়ার দায়িত্ব ও গুরুত্ব অপরিসীম।
লেখক: এম এ আউয়াল, বিলেত প্রবাসী।