আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত’। ইসলাম ধর্মে একজন মুসলিম ব্যাক্তি কিভাবে সালাম দিবেন ও কিভাবে সালামের উত্তর দিবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান। ‘ইসলাম থেকে’, বিভাগ প্রধান, শীর্ষবিন্দু নিউজ।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম আদম (আ.)-কে সালামের শিক্ষা দেন। সালাম আরবি শব্দ। এর অর্থ শান্তি, প্রশান্তি, কল্যাণ, দোয়া, আরাম, আনন্দ ইত্যাদি। সালাম একটি সম্মানজনক অভ্যর্থনামূলক ইসলামি অভিবাদন।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম আদম (আ.)-কে সালামের শিক্ষা দেন। হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা তাকে ফেরেশতাদের সালাম দেয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি সালাম দিলেন- السلام عليكم
উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম
অর্থ: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
ফেরেশতারাও সালামের উত্তরে বললেন- وعليكم السلام
উচ্চারণ: ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
অর্থ: আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক।
হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, এক মুসলমানের অন্য মুসলমানের ওপর ছয়টি হক রয়েছে- তার মধ্যে সর্বপ্রথম হক হলো যখন কোনো মুসলমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, তখন তাকে সালাম দেয়া। সালামের মাধ্যমে পরস্পরের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। কোনো মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে কথা বলার আগে সালাম দেয়া, নবী করিম (সা.) এর আদর্শ। আর এর উত্তর দেয়া অবশ্যকরণীয়।
আসুন জেনে নেই…
সালাম দেওয়া সুন্নত এবং উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আমাদের অনেকেরই সালাম দিতে গিয়ে বা সালামের উত্তর দিতে গিয়ে অজান্তেই ভুল হয়ে যায়।
এই ভুলের কারণে আমরা প্রতিনিয়ত, একজন আরেকজনকে বদদোয়া দিচ্ছি। একজন আরেকজনের ধ্বংস, ক্ষতি, অকল্যাণ কামনা করছি।
সওয়াবের বদলে পাপের বোঝা ভারি হচ্ছে।
যেমন: আমরা প্রতিদিন অনেককেই এভাবে সালাম দিতে শুনি যে,
১) স্লামালাইকুম ✘
২) আস সালামালাইকুম ✘
৩) সেলামালাইকুম ✘
৪) আসলা মালিকুম ইত্যাদি ✘
যার অর্থ শান্তির পরিবর্তে গজব, অশান্তি কিংবা শাস্তি কামনা করা হয়।
আবার উত্তর দেয়ার সময়ও শোনা যায় ভুল শব্দের ব্যবহার। যেমনঃ
১) অলাইকুম সালাম ✘
২) অলাইকুম আস-সালাম ✘
৩) আলিকুম সালাম ইত্যাদি ✘
যার উত্তরেও গজব,অশান্তি কিংবা শাস্তি কামনা করা হয়।
নাঊজুবিল্লাহি মিন জালিক।
আস্তাগফিরুল্লাহিল আ’জিম।
সালাম একটি দু’আ। এর সহীহ উচ্চারণের প্রতি গুরুত্ব দেয়া জরুরি। কমপক্ষে এতটুকু বিশুদ্ধ উচ্চারণ অবশ্যই জরুরি, যার দ্বারা অর্থ ঠিক থাকে।
সালাম এর সঠিক উচ্চারণ হলো,
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি, ওয়া
বারাকাতুহ্
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
‘ওয়া আলাইকুমুস-সালাম, ওয়া রহমাতুল্লাহি, ওয়া বারাকাতুহ্
আরবী দেখে এর সহীহ উচ্চারণ শিখে নেয়া উচিত অন্যথায় ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম’-এর স্থলে ‘অলাইকুম আস সালাম’ হয়ে যায়।
অথচ,আস-সালামুআ’লাইকুম মানে→
আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
ওয়া আ’লাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
অর্থাৎঃ আপনার উপর শান্তি,রহমত ও বরকত নাজিল হোক।
১) আমি আপনার শুধু শান্তি কামনা করলাম,
২) আর আপনি আমার জন্য শান্তি, রহমত ও বরকত কামনা করলেন।
এ যেন ইসলাম ধর্মের শাশ্বত,চিরসুন্দর বিধান। যেখানে একটির বিনিময়ে তিনটির দোয়া করা হয়। অতএব, সম্মানিত মুসলমান সমাজ,আসুন আমরা ছহীহ, শুদ্ধভাবে সালাম আদান-প্রদান করি।
লেখক: ইমাম ও খতিব– মসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারি– শরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড ও মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যয়ানকারী চেয়ারম্যান- নিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপাল- আর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালক- আর-রাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে।