রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৮:৫১

আহলান, সাহলান মাহে রামাদান

আহলান, সাহলান মাহে রামাদান

/ ২১
প্রকাশ কাল: বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান: মহান আল্লাহর মোমিন বান্দাগণের জন্য বছর ঘুরে আবার এলো পবিত্র রমজানুল মুবারক। গত সোমবার রাতে পবিত্র রামাদানের চাঁদ দেখা গেছে। তাই মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র মাস রামাদান।  আজ বুধবার দ্বিতীয় রোজা রেখে সিয়াম পালন করবেন মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ ও আমেরিকার মোমিন বান্দাগণ।

মহান আল্লাহ কর্তৃক এ মাসে প্রথম দিন থেকে শেষ দিন অবধি সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় আহার-পাপাচার ইত্যাদি থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহর-ই সন্তুষ্টি কামনায় রোযা পালনের বিধান বর্ণিত হয়েছে।

আরবি: رمضان রামাদ্বান্‌; ফার্সি: رمضان র‍্যাম্‌জ্‌ন হতে রমজান বা রামাদান। আরবিতে বলা হয় সিয়াম। যা বাংলাদেশ সহ ভারত উপমহাদেশের বেশীর ভাগ দেশে “রোজা” বলে বেশী পরিচত। এ মাসের ফজিলতের মাধ্যমে তামাম পৃথিবীর মুসলিম সম্প্রদায় মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে থাকেন। এর প্রথম অংশ রহমতের, দ্বিতীয় অংশ মাগফিরাত ও তিৃতীয় অংশ হল নাজাতের। রমজানের আনন্দ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন: “বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম। [সূরা ইউনুস : ৫৮]”

যখন রমজানের আগমন হত তখন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিশয় আনন্দিত হতেন, তার সাহাবাদের বলতেন: “তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে’’। এ মাসের কিছু ফজিলত সম্পর্কে তিনি আরও বলেন: “আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করা হয়। এ মাসে রয়েছে একটি রাত যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল। বর্ণনায় : নাসায়ী”

রাসূল (সঃ) বলেছেন “প্রত্যেকটি জিনিসেরই জাকাত আছে, শরীরের জাকাত হল রোজা রাখা।“ যেমন ইরশাদ হয়েছে- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরয করা হয়েছে! যেমনি (তোমাদের) পূর্ববর্তীদের ওপর ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের পরহেযগারী অর্জিত হয়।’ উল্লেখ্য যে, ইসলামের বিধানে সর্বপ্রথম শুধুমাত্র আশুরার রোযা ফরয ছিলো। অর্থাৎ বছরে একটি। তারপর প্রতি মাসে তিনটি রোযা ফরয হলো প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ। অতঃপর বর্ণিত আয়াতে করিমা দ্বারা রমজান মাসের রোজা ফরয করা হয়েছে। আর আগের ওই রোজাগুলোর ফরয হওয়া রহিত হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য যে, রোজা দ্বিতীয় হিজরীর ১০ শাবান ফরয করা হয়েছে। পবিত্র রমজা‌নের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যমন্ডিত। বিশেষত এ মাসেই অবতীর্ণ করা হয় পবিত্র কোরআনুল করিম। আর এই কোরআনুল করিম এবং হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এ মাসের ব্যপক মযার্দা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন- হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (র.) থেকে বর্ণিত রহমতে আলামিয়ান হাবীবে রহমান হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর মর্যাদাপূর্ণ বাণী হচ্ছে ‘আমার উম্মতকে রমযান মাসের পাঁচটি এমন জিনিস দান করা হয়েছে যেগুলো আমার পূর্বে অন্য কোন নবী পাননি।’

১. যখন রমজানুল মুবারকের প্রথম রাত আসে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন। আর যার প্রতি আল্লাহ রহমতের দৃষ্টি দেন তাকে কখনো আযাব দেবেন না।

২. সন্ধ্যায় তাদের মুখের দুর্গন্ধ (যা ক্ষুধার কারণে সৃষ্টি হয়) আল্লাহ তা’আলার নিকট মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধি হয়।

৩. ফেরেশতাগণ প্রত্যেক দিনে ও রাতে তার জন্য মাগফিরাতের দোআ করতে থাকেন।

৪. আল্লাহ তা’আলা জান্নাতকে নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ ফরমান, ‘আমার নেক বান্দাদের জন্য সুসজ্জিত হয়ে যাও। শিগগিরই তারা দুনিয়ার কষ্টের বিনিময়ে আমার ঘর ও দয়ার মধ্যে শান্তি পাবে।’

৫. যখন রমজান মাসের সর্বশেষ রাত আসে তখন আল্লাহ তাআলা সবাইকে ক্ষমা করে দেন। উপস্থিতদের মধ্যে একজন দাঁড়িয়ে আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল এটা কি ‘লাইলাতুল ক্বদর?’ ইরশাদ হলো, ‘না’। তোমরা কি দেখনি যে, শ্রমিকগণ যখন নিজের কাজ সম্পন্ন করে নেয়, তখন তাদেরকে পারিশ্রমিক দেয়া হয়? (আত্তারগীর ওয়াত্তারহীব, খন্ড-২য়, পৃ-৫৬, হাদীস-৭)।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com