ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান: মাহে রমজানের রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলার শিক্ষা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও আত্ম-অহংবোধ ভুলে গিয়ে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাসই হলো মাহে রমজান। রমজানে ইবাদতের পাশাপাশি মানবিক কিছু বিষয়ের শিক্ষা অর্জন করাও আবশ্যক।
মাহে রমজানের রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলার শিক্ষা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও আত্ম-অহংবোধ ভুলে গিয়ে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাসই হলো মাহে রমজান। উম্মতে মুহাম্মদীর নৈতিক চরিত্র উন্নত করে সাহাবায়ে কিরামের মতো আদর্শ জীবন গঠন করার প্রশিক্ষণ এ মাসেই গ্রহণ করতে হয়।
ইরশাদ হচ্ছে- ‘ওহে যারা ঈমানের ঘোষণা দিচ্ছ (শোনো) তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো। যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, উদ্দেশ্য এই যে, তোমরা যেন তাকওয়ার শিক্ষা লাভ করতে পার। তবে তোমাদের যারা রুগ্ন কিংবা সফরের অবস্থায় থাকবে তাদের জন্য পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা পূর্ণ করে দেয়ার অবকাশ থাকল। আর যাদের রোজা দৈহিক সামর্থ্য নিঃশেষিত প্রায় হয়ে এসেছে তাদের জন্য প্রতি রোজার বিনিময়ে একজন মিসকীনের খাবার দানের ব্যবস্থা রাখা হলো। তবে কেউ অতিরিক্ত কিছু কল্যাণকর্ম সম্পাদন করলে তা হবে তার পক্ষে উপকারী আর তোমরা রোজা রাখতে পারলেই তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে পার। রমজান মাস হলো এমন একটি সময় যার মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছে কুরআনুল কারীম। মানবগোষ্ঠীকে হেদায়েতের সন্ধ্যান দানের উদ্দেশ্য আর যা নাকি হেদায়েতের সুস্পষ্ট নির্দেশনাবলি এবং সত্য ও মিথ্যা পার্থক্য বিধায়ক। অত্রএব, তোমাদের যে কেউ রমজান মাসটি প্রাপ্ত হবে সে যেন তাতে অবশ্যই রোজা রাখে।’ (আল-বাকারা : ১৮৩-১৮৫)
রোজা মুসলমানদের আদর্শ চরিত্র গঠন, নিয়মানুবর্তিতা ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের শিক্ষা দেয়। সত্যিকার মুমিন হিসেবে গড়ে ওঠার অনুপম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাস এ রমজানুল মোবারক; এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সব প্রকার নাফরমানি কাজ থেকে দূরে থাকার নামই ‘তাকওয়া’। রোজা বান্দার মনে আল্লাহর ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে থাকে। আল্লাহর কাছে বান্দার মান-মর্যাদা নির্ধারণের একমাত্র উপায় তাকওয়া। এটিই মানুষের মনে সৎ ও মানবিক গুণাবলি সৃষ্টি করে।
মাহে রমজান সংযমের শিক্ষা দেয়। সংযম শুধু পানাহার বা কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সংযম ব্যক্তির সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনেকেই রোজা রাখে, আবার ভুল বিনোদনেও ডুবে থাকে। টিভি, স্মার্টফোন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় অহেতুক সময় নষ্ট করে রোজার অপূরণীয় ক্ষতি করে। হাদিসে রোজাকে ঢাল বলা হয়েছে। এই ঢাল আমাদের ততক্ষণই সুরক্ষা দেবে, যতক্ষণ না গুনাহের কারণে তাতে ফাটল ধরবে। তাই সারা দিনের সাধনা একটি ভুলের কারণে যেন ধূলিসাৎ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এসব ভুল বিনোদন থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে। তাহলেই রহমতের বারিধারায় সিক্ত হবে পুণ্যের লতাগুল্ম।
সারা বছর আমাদের শরীর ও মনের ওপর যে পাপের আস্তর জমে উঠেছিল, রমজান সেই আস্তরকে পুড়িয়ে আমাদের শারীরিক সুস্থতা ও আত্মিক শুদ্ধতায় উৎকর্ষ আনুক। রমজানের বদৌলতে সমৃদ্ধ হোক পরকালের পাথেয়। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার মধ্যে গড়ে উঠুক সম্প্রীতির বন্ধন।
লেখক: ‘ইসলাম বিভাগ’ প্রধান- শীর্ষবিন্দু নিউজ, ইমাম ও খতিব– মসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারি– শরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড ও মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যায়নকারী চেয়ারম্যান- নিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপাল- আর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালক- আর-রাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে।
Leave a Reply