মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৬:১৮

জিলহজের প্রথম দশকে যেসব আমল করতে হবে

জিলহজের প্রথম দশকে যেসব আমল করতে হবে

ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান / ৩০৮
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১

আজ শুক্রবার পবিত্র জুমাবার আজকের বিষয়জিলহজের প্রথম দশকের আমল’ শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান ‘ইসলাম থেকে’, বিভাগ প্রধান, শীর্ষবিন্দু নিউজ

পুরো জিলহজ মাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। কোরআনে কারিমের সূরায়ে ফজরের শুরুতে আল্লাহ তায়ালা এই ১০ রাতের কসম খেয়ে বলেন, ‘কসম ফজরের এবং ১০ রাতের।’ এর দ্বারা জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন সম্পর্কে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন,
‎عن ابى هريرة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من ايام احب الى الله ان يتعبد له فيها منعشر ذى الحجة يعدل صيام كل يوم منها بصيام السنة و قيام كل ليلة منها بقيام ليلة القدر

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলার নিকট জিলহজ মাসের প্রথম 10 দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় আর কোন ইবাদত নেই। উহার প্রতিদিনের রোজা (৯ তারিখ পর্যন্ত) পূর্ণ এক বছরের রোজার সওয়াব। আর প্রতিটি রাত্রির ইবাদত শবে কদরের রাত্রির ইবাদতের সমতুল্য। (তিরমিজি)

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‎قال رسول الله صلي الله عليه وسلم ما من ايام العمل الصالح فيهن احب الى الله من هذه الايام العشرة قالوا يا رسول الله ولا الجهاد فى سبيل الله قال ولا الجهاد فى سبيل الله الا رجل خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء
“জিলহজ্জ মাসের দশ দিনের নেক আমল আল্লাহ তা’ আলার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন জিহাদও কি অধিক প্রিয় নয়? রাসূল (সা.) বললেন, না জিহাদও নয়। তবে যারা জিহাদের ময়দানে নিজের জান- মাল দিয়ে লড়ছে এখনো ফিরে আসেনি তাদের বিষয়টি ভিন্ন। (বুখারী)

জিলহজ্জ মাসের নয় তারিখ তথা আরাফার দিনের কথা রাসূল (সা.) স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করে বলেন,
‎عن قتادة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عرفة احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله والسنة التى بعده

হযরত কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ, (সা.) বলেন, আমি আল্লাহ পাকের দরবারে আশা রাখি যে, আরাফাতের দিবসের রোজার দ্বারা তিনি এক বৎসরের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল গুনাহ মা’ফ করেয দিবেন। (মুসলিম শরীফ)
অন্য হাদীসে রাসুল সা. এরশাদ করেছেন, ঈদের পূর্বের রাত্রে আল্লাহর ইবাদত কারীর দিল (অন্তর মৃত হবে না, যেদিন সমস্ত দিল মরে যাবে। অর্থাৎ ঈদের রাত্রি জাগরণকারী কেয়ামতের মহা ভয়ঙ্কর অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি লাভ করবে যখন মানুষ ভীষণ হতাশাগ্রস্ত হবে। (মিশকাত শরীফ)

এই ১০ দিনের মধ্যে শেষের দু’দিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যাকে হাদিসের পরিভাষায় ‘ইয়াওমে আরাফা’ ও ‘ইয়াওমে নাহর’ বলা হয়। এ ছাড়াও দুটি ইবাদত এ মাসের প্রথম দশককে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে তোলে। যে দুটি ইবাদত জিলহজ মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে আদায় করা সম্ভব নয়। এমনকি রমজানেও নয়। একটি হলো হজ, অপরটি কোরবানি।

এ মাসের করণীয় আমল- প্রথমত, যাদের ওপর হজ ফরজ হয়েছে তাদের জন্য উচিত বিলম্ব না করে হজ আদায় করা। আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান আছেন, যাদের ওপর হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও তা আদায়ে বিলম্ব করে থাকেন। মুসলমান হিসেবে কোনো পুণ্যময় কাজে অবহেলা কিংবা বিলম্ব করা উচিত নয়।

লেখক: ইমাম খতিবমসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারিশরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যায়নকারী চেয়ারম্যাননিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপালআর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালকআররাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021