শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৭

হিযকীল আলাইহিস সালামের বিবরণ

হিযকীল আলাইহিস সালামের বিবরণ

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘হিযকীল আলাইহিস সালামের বিবরণ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

হযরত হিজকিল, বা ইংরেজিতে হিযকিল (আঃ) নাম কুরআনে উল্লেখ করেননি। তবে প্রচুর আলেম বিশ্বাস করেন যে সূরা বাকারা আয়াতে ২৪৩ নবী হিজকিল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তবে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভাল জানেন। তাঁর সময় হযরত ঈসা (আঃ) জন্মের প্রায় ৬০০ বছর পূর্বে।

۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيَاهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ (আল বাকারা-243)

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন? অথচ তারা ছিল হাজার হাজার। তারপর আল্লাহ তাদেরকে বললেন মরে যাও। তারপর তাদেরকে জীবিত করে দিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের উপর অনুগ্রহকারী। কিন্তু অধিকাংশ লোক শুকরিয়া প্রকাশ করে না।

তিনি বনী ইসরাঈলের একজন নবী ছিলেন। তার নাম হযরত হিযকিল আ.। উপরোল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ তার নাম উল্লেখ করেছেন। (মারেফুল কুরআন)

ইউশা আলাইহিস সালামের মৃত্যুর পর কালিব ইবনে ইউফান্না বনী ইসরাঈলের নেতা হন এবং তার ইন্তিকালের পর হিযকীল ইবনে ইউযী বনী ইসরাঈলের পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এই হিযকীল ‘ইবনুল আজুয’ তথা বৃদ্ধার পুত্ররূপে পরিচিত, যার দোয়ায় আল্লাহ সে সব মৃত লোকদেরকে জীবিত করে দিয়েছিলেন, যাদের ঘটনা পূর্বোদ্ধৃত আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে।
ইবনে ইসহাক বলেন, এসব লোক মহামারীর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং এক প্রান্তরে উপনীত হয়। আল্লাহ বললেন, তোমাদের মৃত্যু হোক। ফলে তারা সকলেই তথায় মারা যায়। অবশ্য তাদের লাশগুলো হিংস্র জন্তুর কবল থেকে রক্ষা করার জন্য কুদরতিভাবে বেষ্টনীর ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে সুদীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়। একদা হিযকীল আলাইহিস সালাম তাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন। তিনি থমকে দাঁড়ান এবং চিন্তা করতে থাকেন। এ সময় একটি গায়েবি আওয়াজের মাধ্যমে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আল্লাহ এ মৃত লোকদেরকে তোমার সামনে জীবিত করে দেন তা কি তুমি চাও? হিযকীল বললেন, জ্বী, হ্যা। এরপর তাকে বলা হল, তুমি হাড়গুলোকে আদেশ কর, যাতে সেগুলো গোশত দ্বারা আবৃত হয় এবং শিরাগুলো যেন পরস্পর সংযুক্ত হয়। আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী হাড়গুলোকে সে আহবান করার সাথে সাথে লাশগুলো সবই জীবিত হয়ে গেল এবং সমস্বরে আল্লাহু আকবর ধ্বনি উচ্চারণ করল।

আসবাত ঐতিহাসিক সুদ্দী থেকে বিভিন্ন সূত্রে ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ প্রমূখ সাহাবী থেকে উপরোক্ত আয়াতে বিবৃত ঘটনা সম্পর্কে লিখেছেনঃ-
ওয়াসিত এর নিকটস্থ একটি জনপদের নাম ছিল দাওয়ার-দান। এ জনপদে একবার ভয়াবহ মহামারি দেখা দেয়। এতে সেখানকার অধিকাংশ লোক পালিয়ে যায় এবং পার্শ্ববর্তী এক এলাকায় অবস্থান করে। জনপদে যারা থেকে গিয়েছিল তাদের কিছু সংখ্যক মহামারিতে মারা যায়; কিন্তু অধিকাংশ বেচে যায়। মহামারি চলে যাওয়ার পর পালিয়ে যাওয়া লোকজন জনপদে ফিরে আসে। জনপদে থেকে যাওয়া লোকদের মধ্যে যারা বেচে গিয়েছিল তারা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, আমাদের যেসব ভাইয়েরা এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তারা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। তাদের মত যদি আমরাও চলে যেতাম, সবাই বেচে থাকতাম। পুনরায় যদি এরকম মহামারি আসে আমরাও চলে যাব। পরবর্তী বছর মহামারি দেখা দিল এলাকার সবাই বেরিয়ে যায় এবং পূর্বের স্থানে গিয়ে অবস্থান নেয়। সংখ্যায় এরা ছিল তেত্রিশ হাজার বা তার কিছু বেশি। যে স্থানে তারা সমবেত হয়, সে স্থানটি ছিল একটি প্রশস্ত উপত্যকা। তখন একজন ফেরেশতা উপত্যকার নীচের দিক থেকে আরেকজন উপরের দিক থেকে আওয়াজ দিয়ে বলেন, তোমাদের মৃত্যু হোক। আগে যে সমস্ত লোক মারা গেল, তাদের দেহগুলো সেখানে পড়ে থাকল…. এরপর পূর্বোক্তভাবে হিযকীল আলাইহিস সালামের কুদরতের লীলা দেখলেন। আসবার বলেন, মনসুর রহঃ মুজাহিদ রহঃ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, লোকগুলো জীবিত হয়ে এ দোয়াটি পাঠ করেঃ-
সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদীকা লা ইলাহা ইল্লা আনতা। অর্থ- হে আল্লাহ! আপনি অতি পবিত্র-মহান, যাবতীয় প্রশংসা আপনার, আপনি ব্যতিত আর কোনো মাবুদ নাই।
এরপর এরা জনপদে ফিরে আসে। জনপদের অধিবাসীরা তাদেরকে দেখে চিনতে পারল যে, এরাই ঐসব লোক, যারা আকস্মিকভাবে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল। তবে যে কাপড়ই তারা পরিধান করত তাই পুরনো হয়ে যেত। এরপর এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে সকলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

এদের সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, এদের সংখ্যা চার হাজার; অপর বর্ণনামতে আট হাজার; আবু সালিহর মতে নয় হাজার; ইবনে আব্বাস এর আরেক বর্ণনামতে চল্লিশ হাজার। সাইদ ইবনে আব্দুল আযীয তাদের সম্বন্ধে বলেছেন, তারা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি জাতি। ইবনে জুরাইয রহঃ তাবিয়ী আতা রহঃ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, শত সতর্কতা অবলম্বন সত্ত্বেও কেউ যে ভাগ্য-লিখনি খণ্ডাতে পারে না, এটা তারই এক রূপক দৃষ্টান্ত। কিন্তু অধিকাংশ আলিমের মতে এটা ছিল একটি বাস্তব ঘটনা।

লেখক: ইসলাম বিভাগ প্রধানশীর্ষবিন্দু নিউজ। ইমাম খতিবমসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারিশরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যায়নকারী চেয়ারম্যাননিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপালআর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালকআররাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026