মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৩:০০

মোহাম্মদ ‎مُحَمَّد ﷺ ২০তম ও শেষ পর্ব

মোহাম্মদ ‎مُحَمَّد ﷺ ২০তম ও শেষ পর্ব

ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান / ১১৬
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয়মোহাম্মদ ‎مُحَمَّد ﷺ  ২০তম ও শেষ পর্ব’ শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রাহমান

‎ لا إله إلا الله محمد رسول الله ﷺ

প্রাক-ইসলামী যুগে যখন চরম উচ্ছৃঙ্খলতা, পাপাচার, দুরাচার, ব্যাভিচার, মিথ্যা, হত্যা, লুন্ঠন, মদ্যপান, জুয়ায় ভরপুর ছিল। অন্যায়-অপরাধ, দ্বন্ধ-সংঘাত, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, নৈরাশ্য আর হাহাকার বিরাজ করছিল ঠিক এমন সময় মানবতার মুক্তির দিশারী সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সারা জাহানের হিদায়েতের জন্য আবির্ভূত হলেন। রাসুল (সাঃ) হলেন বিশ্ব মানতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমত স্বরুপ প্রেরিত। মহান বিশ্ব পরিচালক ঘোষণা করেনছেন, “আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি বিশ্ব জগতের জন্য বিশেষ রহমত স্বরুপ।”

পুর্বের আলোচনায় বা লিখার মাধ্যমে বিশ্বনবী সঃ জীবনীতে তুলতে ধরে চেস্টা করেছি ।
  ৪০ বৎসর ৬১০ ইসায়ীঃ ১ম বৎসর থেকে ৩য় বৎসর-

১ম বৎসর:  নামাযের আদেশ- প্রথমে যা কিছু নাযিল হয়েছিল এর মধ্যে নামাযের আদেশও ছিলো। মোকাতেল ইবনে সোলায়মান বলেন- ইসলামের শুরুতে আল্লাহ তায়ালা দু’রাকাত নামাজ সকালে এবং দু-রাকাত নামায সবার জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘‘সকাল এবং সন্ধ্যায় তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাঁর সেজদা করো।’’

 ৪৩ বৎসর ৬১৩ ইসায়ীঃ ৩য় বৎসর থেকে ৫ম বৎসর-
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বরেন ‘‘নিকট আত্মীয়দের আত্মার আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করো।’’

এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূল (সা.) আওয়াজ দিলেন সাধারণ ও বিশেষভাবে তিনি বললেন- হে কুরায়শ দল তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনি কার্য, লিনদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে মোহাম্মদের মেয়ে ফাতেমা নিজকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। আমি তোমাদরেকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষার ব্যাপারে অদিষ্ট হয়েছি। যেহেতু তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তা রয়েছে কাজেই এই সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে যথা সম্ভব সজাগ করবো (বুখারী শরীফ, ২য় খন্ড, পৃ- ৭০৬- ৭৪৩, মুসলিম শরীফ, ১ম খন্ড।

আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘‘তোমাকে যে আদশে দেয়া হয়েছে, সেটা খোলা খুলি তুমি ঘোষণা করো এবং মুশরেকদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।’’ (সূরা আল ইস্রাঈল- ৯৪) ১৫, ৯৪
 ৪৫ বৎসর ৬১৫ ইসায়ীঃ  ৫ম আবিসিনিয়ায় হিজরত-

নবী (সা.) হঠাৎ করে মধুর স্বরে কোরআন তেলাওযাত শুরু করলে পৌত্রলিকরা মোহিত হয়ে পড়ে। তারা কোরআনের লালিত্যে ভাষার মাধুর্যে ছিলো মুগ্ধ ও বিমোহিত। কারো মনে সে সময় অন্য কোন চিন্তাই আসেনি, সবাই এমনই অভিভুত হয়ে পড়েছিল। সুরার শেষ দিক দিকের এই আয়াত তিনি তেলাওয়াত করেন। আল্লাহর জন্য সেজদা করো এবং তাঁর এবাদত করো।

এই আয়াত পাঠ করার পরই নবী (সা.) সেজদায় চলে গেলেন। সাথে সাথে পৌত্রলিকরাও সেজদা করলো। সত্যের প্রভাব এবং মাধুর্য অমুসলীমদের অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছিলো। তারা কেউই নিজের মধ্যে ছিল না। একারণে নিজের অজ্ঞাতেই সেজদায় নত হয়েছিল। (বুখারী শরীফে আব্বাস (রা.) এই ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ)

 ৪৬ বৎসর ৬১৬ ইসায়ীঃ
৬ষ্ঠ- হযরত হামজা (রা.) ও হযরত ওমর (রা.), হযরত হামযা (রা.) ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল যে, আবু জেহেল একদিন সাফা পাহাড়ের কাছাকাছি জায়গায় রাসূল (সা.) কে গালমন্দ করে এবং তাকে কষ্ট দেয়। রাসূল (সা.) নীরব রইলেন, কোনো কথাই বললেন না। আবু জেহেল এর পর আল্লাহর রাসূলের মাথায় এক টুকরো পাথর নিক্ষেপ করলো।

এতে মাথা কেটে রক্ত বের হলো। আবু জেহেল এর পর কাবার সামনে কোরায়েশদের মজলিসে গিয়ে বসলো, আব্দুল্লাহ ইবনে জুনায়েমের একজন দাসী প্রত্যক্ষ করলো, হযরত হামযা (রা.) শিকার করে ফিরছিলেন সেই দাসি হামযাকে সব ঘটনা শোনাল। হযরত হামযা ক্রোধে অধির হয়ে উঠলেন। তিনি ছিলেন কোরায়েশদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী যুবক।

তিনি দেরী না করে সামনে পা বাড়িয়ে বললেন- আবু জেহেল যেখানে পাব সেখানে রক্তাক্ত করব। এর পর তিনি সোজা কাবাঘরে প্রবেশ করে আবু জেহেলের সামনে গিয়ে বললেন ওরে গুহাদ্বার দিয়ে বায়ুত্যাগকারী তুই আমার ভাতিজাকে গালি দিচ্ছিস। অথচ আমিও প্রচারিত দ্বীনের অনুস্বারী। একথা বলে হাতের ধনুক দিয়ে আবু জেহেলের মাথায় এত জুড়ে আঘাত করলেন। যে মাথার মারাত্মক যখন হয়ে গেলে। (ইবনে হিশাম ১১, ১ম খন্ড পৃ-২৯১, ২৯২)

৬ষ্ট বৎসরঃ হযরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণ:
নবী করিম (সা.) দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ ওমর ইবনে খাদবা এবং আবু জেহেলের মধ্যে তোমার কাছে যে ব্যক্তি বেশী পছন্দনীয় তাকে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ দাও এবং তার দ্বারা ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করো। আল্লাহ তায়ালা এ দোয়া কবুল করেন এবং হযরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। (তিরমিযি শরীফ, মানকের আবু হাফস ওমর ইবনে খাত্তাব ২য় খন্ড, পৃ- ২০৯)

৭ম বৎসর  ৬১৭ ঈসায়ীঃ
মক্কায় কাফিরদের অত্যাচারে মুসলমানগণ দ্বিতীয় বার হিজরত করতে বাধ্য থাকেন।

৮ম বৎসর থেকে ৯ম বৎসরঃ ৬১৮ ঈসায়ী – ৬১৯ ঈসায়ী
বনু হাশেম ও বনু মুত্তালেবদের সাতে চাচা আবু তালিবের বৈঠক। শাবে আবু তালেবে তিন বছর। দলিল ছিন্ন করার ঘটনা।

১০ম বৎসর ৬২০ ঈসায়ীঃ চাচা আবু তালিবের ইন্তেকাল:
আবু তালেবের অসুখ বেড়ে গেলো এবং এক সময় ইন্তেকাল করেন। আবু তালেব ঘাটিতে অবরোধ থেকে মুক্ত হওয়ার ছয় মাস পর নবুওয়াতের দশম বর্ষে রজম মাসে তার মৃত্যু হয়েছে। (বুখারী শরীফ, আবু তালেব কিস্মা ১ম খন্ড)

১০ম বৎসর ৬২০ ঈসায়ীঃ হযরত খাদিজা (রা.) এর ইন্তেকালঃ
খাজা আবু তালেবের ইন্তেকালের দু মাস অথবা শুধু তিন দিন পর উম্মুল মোমীনিন খাদিজাতুল কোবরা (রা.) ইহলোক ত্যাগ করেন নবুওয়াতের দশম বর্ষের রমজান মাসে তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিলো। সেই সময় তার বয়স ছিলো ৬৫ বছর। রাসূল (সা.) বয়স সে সময় পঞ্চাশে বেড়েছিল। (তালিকিহুল ফুহুম)

১০ বৎসর ৬২০ ঈসায়ীঃ হযরত সাওদা (রা.) এর সাথে বিবাহ
সেই বছর অর্থাৎ নবুয়তের দশম বর্ষে শাওয়াল মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত সাওদা বিনতে জাম’য়া (রা.) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হযরত সাওদা (রা.) নবুয়তের প্রথম দিকেই মুসলমান হয়েছিলেন। (রাহমাতুল্লিল আলামিন, ২য় খন্ড পৃ- ১৬৫)

১০ম বৎসর ৬২০ ঈসায়ী: রাসুলুল্লাহ(সা.) মক্কার বাহিরে তায়েফ গমন:
হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আল্লাহর রাসুলকে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম ওহুদের দিনের চেয়ে মারাত্মক কোন দিন আপনারজীবনে এসে ছিলো কি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার কওম থেকে আমি যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন ছিলো তায়েফের দিন। আমি আবদে ইয়ালিল ইবনে আবদে কুলাল সন্তানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলাম।

কিন্তু তারা আমার দাওয়াত গ্রহণ করেনি। আমি দুঃখ কষ্ট ও মানসিক বিপর্যস্থ অবস্থায় কারোন ছাআলেবে পৌঁছে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলাম। যেখানে মাথা তুলে দেখি মাথার ওপরে এক টুকরো মেঘ। ভালোভাবে তাকিয়ে দেখি সেখানে হযরত জিব্রাইল (আ.) তিনি আমাকে বললেন, আপনার কওম আপনাকে যা যা বলেছে আল্লাহ তায়ালা সবই শুনেছেন। আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেস্তাদের পাঠানো হয়েছে।

এরপর পাহাড়ের ফেরেস্তারা আমাকে আওয়াজ দিলেন, সালাম জানালেন। এবং হে আল্লাহর রাসূল (সা.) হাঁ একথা সত্যই আপনি যদি চান তবে আমরা ঐ জাতিকে পাহাড়ের মধ্যে পিষে দিবো। (বুখারী শরীফ, কেতাবে বাদায়াল খালক ১ম খন্ড পৃষ্ঠা- ৪৫৮)

১১তম বৎসর ৬২১ ঈসায়ী:
নবী করিম (সা.) নবুওয়াতের একাদশ বর্ষের শাওয়াল মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হযরত আয়েশা সিদ্দিকার বয়স ছিলো তখন মাত্র ছয় বছর। হিজরতের আগের বছর শাওয়াল মাসে হযরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) স্বামীর গৃহে গমন করেন। সেই সময় হযরত আয়শা (রা.) বয়স ছিল ৯ বছর। (বুখারী শরীফ ১ম খন্ড পৃ- ৫৫৭)

১১তম বৎসর ৬২১ ঈসায়ীঃ নবী করিম (সা.) এর মেরাজ।

১১তম বৎসর ৬২১ ঈসায়ীঃ প্রথম বাইয়াতে আকাবা।

১২তম বৎসর ৬২২ ঈসায়ীঃ দ্বিতীয় বাইয়াতে আকাবা।

১৩তম বৎসর ৬২২ ঈসায়ীঃ

১-১-১ হিজরীঃ মদিনার পথে
হযরত মোহাম্মদ (সা.) এবং হযরত আবু বকর সিদ্দিক ৯ (রা.) মদিনার পথে রওয়ানা হলেন। বিভিন্ন পথ সম্পর্কে অভিজ্ঞ আব্দুল্লাহ ইবনে আরিকত লাইছির সাথে আগেই চুক্তি হয়েছিলো যে, তিনি পারিশ্রামিকের বিনিময়ে এই দুজনকে মদিনায় পৌঁছে দেবেন কোরায়েশদের ধর্ম বিশ্বাসের ওপর থাকলেও ঐ লোকটি ছিল বিশ্বস্থ।

এ কারণে তাকে সওয়ারী ও দেয়া হয়েছিলো তাকে বলা হয়েছিলো যে, তিন দিন পর সে দু’টি সওয়ারীসহ দুর গুহার সামনে যাবে। সোমবার রাতে ১লা রবিউল আউয়াল মোতাবেক ১৬ই সেপ্টেম্বর ৬২২ ঈসায়ী সালের সোমবার রাতে আব্দুল্লাহ ইবনে আরিকত সওয়ারী নিয়ে এলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এ সময় তাঁর দুটি উঠনি দেখিয়ে বললেন হে আল্লাহর রাসুল আপনি এ দুটির মধ্যে একটি গ্রহণ করুন। রাসুল (সা.) বললেন হ্যাঁ তবে মূল্যের বিনিময়ে। (বুখারী শরীফ, ১ম খন্ড, পৃ- ৫৫৩-৫৫৫)

১ম হিজরীঃ ৫৩ বৎসরঃ

১৩তম বৎসর ৬২২ ঈসায়ী:
 সুরা- আল হাজ্ব ৪১ নং আয়াতঃ আমি যদি এদের (আমার) যমিনে (রাজনৈতিক) প্রতিষ্ঠা দান করি, তাহলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত আদায়ের ব্যবস্থা করবে, সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে (অবশ্যই) সব কাজের চূড়ান্ত পরিনাম কিছু আল্লাহ তায়ালাই এখতিয়ারভুক্ত।

 নবী (সা.) ৬২২ ঈসায়ী সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর মোতাবেক পহেলা হীজরীর ১২ই রবিউল আওয়াল শুক্রবার বনু নাজ্জার গোত্রের হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) এর বাড়ীর সামনে এসে পৌছলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইনশাআল্লাহ এটাই হবে আমাদের মনযিল এর পর তিনি হযরত আইয়ুব আনসারী (রা.) গৃহে স্থানান্তরিত হন।

 মসজিদে নববী (সা.) : নবী (সা.)  মসজীদের অদুরে কয়েকটি কাঁবা ঘর তৈরি করলেন। এসব ঘরের দেয়াল খেজুর পাতা ও শাখা দিয়ে তৈরী। এসব ঘর ছিলো প্রিয় নবী (সা.) এর সহধর্মীনিদের বাসগৃহ। এগুলো তৈরী হওয়ার পর রাসুল (সা.) হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) এর ঘর থেকে এখানে এসে উঠলেন।  (বুখারী শরীফ, ১ম খন্ড পৃ- ৭১, ৫৫৫-৫৬০)

 প্রথম ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণাঃ রাসুল (সা.) মদিনায় প্রথম একটি নতুন ইসলামী সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেন। তবে সমাজের বাহ্যিক রূপ আল্লাহর রাসুলকে কেন্দ্র করেই বিকশিত ও পরিস্ফুটিত হয়েছিল। তাঁর মোহনীয় ব্যক্তিত্বই ছিলো সকল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, নৈতিক চরিত্র গঠনের উপাদান, ভালোবাসা ভ্রাতৃত্বের নমুনা, এবাদত বন্দেগী ও আনুগত্য মুসলমানদের নব জীবন লাভের ধন্য করে তুলেছিলো।
দ্বিতীয় হিজরী – ৫৪ বৎসর ৬২৩ ঈসায়ী:

 বদরের যুদ্ধ ১৭ রামাদ্বান: ইসলামের প্রথম সিদ্ধান্তকর সামরীক অভিযান ইসলামী বাহীনির সংখ্যা ছিল ৩১৩জন অথবা ৩১৪।

 সাবান মাসে জেহাদ ফরজ করা হয়।

 রামাদ্বান মাস শুরু

 আযান

 যাকাত ফরজ

 ১ শাওয়ালে ঈদুল ফিতর

 মসজিদে আকসার বদলে কাবা শরীফকে ক্বিবলা নির্ধারণ

 হযরত ফাতিমা (রা.) বিবাহ আলী (রা.) এর সাথে।
তৃতীয় হিজরী – ৫৫ বৎসর ৬২৪ ঈসায়ীঃ

 (মদ) শরাব নিষিদ্ধ করা হয়

 ওহুদের যুদ্ধ ৫ শাওয়াল

 হযরত ওমর (রা.) এর বিধবা মেয়ে হযরত হাফসা (রা.) এর রাসূল (সা.) সাথে শাদী।

 হযরত খাযনাব বিনতে খুজাইমাহ (রা.) এর রাসুলুল্লাহ (সা.) সাথে শাদী।
চতুর্থ হিজরী  ৬২৪ ঈসায়ীঃ

 মেয়েদের জন্য পর্দার বিধান
পঞ্চম হিজরী: ৬২৬ ঈসায়ীঃ

 যায়নাব বিনতে জাহসে (রা.) এর রাসূল (সা.) সাথে শাদী

 জুয়াইাহবিনতে হারীস (রা.) এর রাসুল (সা.) এর সাথে শাদী

 খন্দকের যুদ্ধ ও কাফেরদের শোচনীয় পরাজয়।
৬ষ্ঠ হিজরী ৫৭ বৎসর: ৬২৭ ঈসায়ী:

 হোদাইবয়ার সন্ধি (চুক্তি)

 দাওমাতুল জান্দানের দ্বিতীয় অভিযান।

 প্রতিবেশী দেশ সমূহের রাষ্ট্র প্রধানের নিকট ইসলামের দাওয়াত নিয়ে রাসুল (সা.) এর দূত প্রেরণ।

 খালিদ বিন ওয়ালীদের ইসলাম গ্রহণ।
সপ্তম হিজরী ৫৮ বৎসর : ৬২৮ ঈসায়ীঃ

 মক্কা বিজয়। কাবা থোক মুর্তির অপসারণ গোটা আরবের ইসলাম গ্রহণ।

 হোনায়নের যুদ্ধ।

 উম্মে হাবীব (রা.) এর সাথে রাসুল (সা.) এর শাদী।

 মাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই (রা.) এর সাথে রাসুল (সা.) এর শাদী।

 মাইমনাহ বিনতেহারিম (রা.) এর সাথে রাসূল (সা.) এর শাদী।

 মারীয়াকীবতিয়া (রা.) এর সাথে রাসুল (সা.) এর শাদী।

৮ম অষ্টম হীজরী – ৫৯ বৎসর ৬২৯৯ ঈসায়ী:
মুতার যুদ্ধ।    সুদ নিষিদ্ধ।

৯ম হিজরী- ৬০ বৎসর:
৬৩০ ঈসায়ী : তাবুক যুদ্ধ

 মুসলিম অমুসলিমদের উপর কর যারি।

 হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর নেতৃত্বে মক্কার দ্বিতীয় ইসলামী যুদ্ধ।
১০ম হিজরী- ৬১ বৎসরঃ
৬৩১ ঈসায়ী, হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর ছেলে হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর মৃত্যু।

 বিদায় হজ্ব
১১তম হিজরী, ৬২ বৎসর:
৬৩২ ঈসায়ী:

 আল কুরাআন নাযিল সমাপ্তী।

 মোহাম্মদ (সা.) ইন্তেকাল
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

দয়াময় মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের নেতা মোহাম্মদ (সা.) এর প্রতি সালাম বর্ষণ করুন। তাঁর সংগী সাথী ও পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের প্রতি এবং যারা একান্ত নিষ্টা সহকারে তাঁকে অনুসরণ করেছেন এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন ও যাহারা এই পথের পথিক তাদের সবার প্রতি আল্লাহ তায়ালা শান্তি বর্ষণ করুন। আমিন।




Leave a Reply

Your email address will not be published.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2022